logo

কানাডায় ট্রাক চালকদের বিক্ষোভ: অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ অটোয়া ও ওয়াশিংটনের

এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 10 February 2022


কানাডায় জাস্টিন ট্রুডোর জারি করা করোনাভাইরাস বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সেদেশের ট্রাক চালকদের চলমান বিক্ষোভ গাড়ি শিল্প খাত ও কৃষি খাতকে বিপর্যস্ত করতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে হোয়াইট হাউজ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কানাডায় ট্রাক চালকেরা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত ক্রসিং আটকে রেখে বিক্ষোভ জানিয়ে আসছে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণ সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ফোর্ড তাদের কিছু অংশের উৎপাদন স্থগিত করেছে।

এদিকে ১৩ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ থামাতে ট্রাক চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কানাডা সরকার।

মহামারী কবলিত অনেক পশ্চিমা দেশেই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের দুই বছর পূর্তি হতে চলেছে। কানাডার মত বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও ফ্রান্সেও। বিশেষ করে অতিসংক্রামক ওমিক্রন ধরনের ছড়িয়ে পড়ার হার কিছু কিছু এলাকায় কমে আসার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিক্ষোভ বাড়ছে।

জানুয়ারির শেষ দিক থেকে কানাডার ট্রাক চালকেরা তাদের বাহনের হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন, এবং তাদের এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানী অটোয়ায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

সোমবার রাত থেকে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তে অ্যামবাসেডর সেতুতে কানাডা অভিমুখী যান চলাচল আটকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়টের গাড়ি নির্মাতা ও কৃষি পণ্য উৎপাদকদের কানাযায় পণ্য রপ্তানির মূল পথ এই সেত।

বিক্ষোভের কারণে ফোর্ড মোটর কোম্পানি ও ক্রাইসলার নির্মাতা স্টেলানটিসের উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার থেকে আলবার্টা প্রদেশের আরেকটি সীমান্ত সেতুতেও উভয় দিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুকরণে কানাডা সরকার সীমান্তে টিকা-বা-কোয়ারেন্টাইন নীতি চালু করায় বিক্ষোভে নামে সেদেশের ট্রাক চালকেরা। ‘ফ্রিডম কনভয়’ ব্যানারে তারা রাজধানী অটোয়ার প্রাণকেন্দ্র দখল করে বিক্ষোভ শুরু করে। কার্বন কর ও অন্যান্য আইনের প্রতিবাদেও বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সীমান্তজুড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে ওয়াশিংটন যাতে কানাডা অভিমুখী যানবাহনের স্রোত ব্লু ওয়াটার সেতু দিয়ে সীমান্তের ওপারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যায়। ওই সেতু মিশিগানের পোর্ট হুরন শরহের সঙ্গে অনটারিওর সারনিয়া শহরকে যুক্ত করেছে।

ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম সংকটের একটি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “কনাডার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ অবরোধ চলতে থাকলে দেশের অথনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর একটি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এমনিতেই একটি চাপ রয়েছে।”

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

কানাডার জরুরি প্রস্তুতি বিষয়ক মন্ত্রী বিল ব্লেইর সাংবাদিকদে বলেন, এই বিক্ষোভ কর্মসংস্থানেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং আরও ক্ষতি হওয়ার আগেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার।

বিক্ষোভকারীরা সেতু অবরোধ করে রাখার কারণে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেলানটিস অনটারিওর উইন্ডসরে তাদের যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা বন্ধ রেখেছে, যেখানে ক্রাইসলার গাড়ি নির্মাণ করা হয়।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার তাদের কাজের পালা নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করতে হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে কারখানায় আবার কাজ শুরু হয়।

আরেক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ফোর্ড উইন্ডসরে তাদের কারখানায় ইঞ্জিন উৎপাদন থামিয়ে দিয়েছে, এবং টরোন্টোর কাছে ওকভিলের কারখানাতেও সময়সূচি কমিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, অ্যাম্বাসেডর সেতু অবরুদ্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সব গাড়ি কোম্পানিকে ভুগতে হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর চিপ ঘাটতির কারণে আগে থেকেই সংকটে আছে গাড়ি নির্মাণ শিল্প খাত।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে অটোয়ার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। টরন্টোতে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, “এই মহামারীর সময় পার করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞানসম্মত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি ও নীয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে আমরা জানি।”

এই আন্দোলন ক্ষমতাসীন লিবারেল এবং বিরোধী কনজারভেটিভদের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদের অনেকেই প্রকাশ্যে অটোয়ায় আন্দোলকারীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ট্রুডোর বিরুদ্ধে কোভিড বিধিনিষেধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মিজৌরি ও টেক্সাসের তদন্তকারীরা ক্রাউড ফান্ডিং সেবা গোফান্ডমির বিষয়ে তদন্ত করবে। কানাডায় বিক্ষোভরত ট্রাক চালকদের তহবিল সংগ্রহের জন্য এই ওয়েবসাইটে খোলা পেইজটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে কিছু রিপালিকান নেতা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অটোয়ার ডাউনটাউনের বাসিন্দারা এই আন্দোলন শুরুর সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তবে কর্তৃপক্ষ এখন সেখানে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

রোবাবার রাত থেকে তারা কয়েক হাজার লিটার তেল বাজেয়াপ্ত করেছে এবং বিক্ষোভের এলাকা থেকে একটি তেলের ট্যাংকারবাহী ট্রাক সরিয়ে দিয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ যখন একটি এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, বিক্ষোভকারীরা ট্রাক নিয়ে আবার জড়ো হচ্ছে অন্য কোনো এলাকায়।