logo

কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাস দূর করবেন যেভাবে

সঞ্জয় দত্ত | Wednesday, 15 December 2021


কোনো কাজের গায়ে যখন ‘বিলম্ব’নামক পোশাক পরিয়ে দেয়া হয়, তখন সে কাজে জীবনের সব অলসতা বোধহয় জড়ো হতে থাকে। মনস্তাত্ত্বিক কিছু কিছু বিষয়ে শক্তপোক্ত মিল খুঁজে পাওয়া যায় মানুষের মাঝে; এদের একটি হতে পারে কাজে দীর্ঘসূত্রিতা বা কাজ হাতে রেখে কাজ না করা।

আমরা আমাদের আজকের লেখায় ‘পরে করা যাবে’এমন ধর্ম না ঢুকিয়ে কিভাবে কর্ম সমাধা করা যায় তা নিয়ে কিছু সমাধান দেখবো।

হ-য-ব-র-ল’ অবস্থান নয়, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা

আমরা যা পারি শুধু তা-ই যদি করতে পারতাম বা করার চেষ্টা করতাম, তবে অনেক সমস্যাই নিমিষে সমাধানের পথ খুঁজে পেতো। কিন্তু কোনো একটা বিষয় পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট না করে এমন একাধিক কাজের তালিকা তৈরি করে নিজেরাই নিজেদের জটিল এক প্রতিযোগিতায় ফেলে দেই নিজেদের অজান্তে। আদতে নির্দিষ্ট সময়ে যা শেষ করা দরকার ছিল সেই কাজ ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

একটু গভীরভাবে ভাবলেই দেখা যায় আসলে প্রতিযোগিতাটা মূলত বাইরের পৃথিবীতে যতটা না বেশি; তারচেয়ে বহুগুণ বেশি আমাদের ভেতরে এবং তা অবশ্যই কাজে দীর্ঘসূত্রিতা ডেকে আনতে পারে। তাই বলাই বাহুল্য, কাজে স্পষ্ট হওয়া বা সংক্ষিপ্ত পরিসরে কাজ নিয়ে ভাবা কর্ম সম্পাদনে অনবদ্য এক অস্ত্র হতে পারে। 

আজকেই শুরু করুন

সমাজে একটি বহুল প্রচলিত কথা আছে, ‘শুরু করলেই করা হয় শুরু, শুরু হলেই হয় শেষ। যেকোনো কিছুই যদি শুরু না করে শুরু করবো এমন ভাবনায় সময় চলে যায়, তবে পরবর্তীতে জীবনের প্রয়োজনে যখন আরও নতুন কাজের উদয় হয়, তখন কোনটা করবো কোনটা না - এমন সমীকরণে আমাদের সার্মথ্যের ভরাডুবি ঘটে। তাই, কাজকে দীর্ঘসূত্রিতা থেকে বাঁচতে ময়দানে নামতে হবে এখনই।

পাঁচ মিনিটের চমক

কর্মে দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে রাশিয়ান মনোবিজ্ঞানী ব্লোমা জেইগার্নিক একটি পদ আবিষ্কার করেন যা বিশ্বে ‘জেইগার্নিক ইফেক্ট’ বলে প্রচলিত। তার মতে, কোনো কাজ করবো ভেবে ফেলে রাখলে তা পরবর্তীতে সম্পাদন করতে যে সময় ব্যয় হয় তার চাইতে বহুগুণ কম সময় লাগে যদি তা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও শুরু করা যায়।

কোনো কাজে হয়তো সময় দরকার তিন ঘন্টা, কিন্তু পুরোটা সময়কে লক্ষ্য না করে স্রেফ পাঁচ মিনিট কাজ করো - এমন চিন্তায় কাজ শুরু করে দেওয়ার কথা বলে এই জেইগার্নিক ইফেক্ট।

এতে ব্যক্তি যখন ক্ষুদ্র সময়কে লক্ষ্য ধরে কাজ করার কথা ভাবে, প্রাকৃতিকভাবেই তার ভেতর কাজটি শেষ করার তাড়না জন্মে এবং খুব দ্রুত কাজটি সমাপ্তির মুখ দেখে।            

নিজেকে ক্ষমা করা

কোনোকিছু করতে না পারলে প্রায় সবাই নিজেদের একগাদা দোষারোপ করে থাকি। ফলে দিন বয়ে যায় আর সার্মথ্য থাকা সত্ত্বেও হাতছাড়া হয় অনেককিছুই।

তাই যা কিছু হয়নি তার জন্য নিজেকে অপরাধীর কাতারে ফেলা যাবে না। যত্নের সাথে যা কিছু সমাধা করা অবশিষ্ট সময়টুকুতে সম্ভব- তা করার চেষ্টা করাই সবচে' মঙ্গলের।

মজার ছলে চেষ্টা

আমরা আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষকেই দেখি যারা জীবনকে যেন একপ্রকার কৌতুক ধরে হেসেখেলে বাঁচে। সমস্ত দুঃখ, সমস্ত না-পাওয়া কিংবা বিষাদের আস্তরণে এরা এঁকে দেয় বুড়ো আঙ্গুলের চিহ্ন। অনেকেই আবার এদের পাগল বলে অভিহিত করে।

কিন্তু এতে তাদের কিচ্ছু যায় বা আসে বলে মনে হয় না। কোনো কাজ না করার পেছনে অনেকসময় জীবনের নানাবিধ ঝড়ঝাপটা কারণ হিসেবে আসতেই পারে। তখন যদি আমরা সেইসব মানুষের মতো ভাবতে পারি, তবে যথাসম্ভব কাজে দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানোর চেষ্টা করাই শ্রেয়।

বেঁচে থাকাটাও একধরনের কাজ। তবে সে কাজ বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের অন্য কাজেও মনোযোগ ধরে রাখতে হয়।

কথাচ্ছলে আমরা নিজেদের ভবঘুরে দাবি করতেই পারি, বলতেই পারি “চাই না জীবনে কিচ্ছুটি।” কিন্তু আদতেই কি এই ভাবনা থামিয়ে দেয় আমাদের সব প্রয়োজন? সময়ের সাথে তাল না মেলালে কাজের হিসেবের খাতাটিতে তালিকা বেড়েই চলবে; যদি না কাজে দীর্ঘসূত্রিতায় লাগাম টানা যায়।

 

সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com