কর্মসূচিতে ফের প্রকাশ্য পেট্রোল পাম্প সমিতির দ্বন্দ্ব
এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 3 February 2022
ডিজেল বিপণনে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি কমিশন বাড়ানোসহ ৬টি দাবিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় সমিতির একটি পক্ষ।
তারা সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুলকে সভাপতি এবং মিজানুর রহমান রতনকে মহাসচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ১৫ সদস্যের একটি কমিটির নাম জানায়।
অন্যদিকে মোহাম্মদ নাজমুল হক দাবি করেছেন, সমিতির সভাপতি তিনি এবং ২১ সদস্যের কমিটিতে মহাসচিব হিসাবে আছেন সিলেটের সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক জোবায়ের আহমেদ চৌধুরী।
যারা ধর্মঘট ডেকেছে, তারা কেন্দ্রীয় কমিটির ‘কেউ নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, ওই পক্ষ বিপিসির হয়ে পরিবেশ ‘ঘোলা’ করতে চাইছে।
অন্যদিকে ধর্মঘট আহ্বানকারী কমিটির মহাসচিব রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নাজমুল হক দীর্ঘদিন ধরে সমিতিতে কোনো নির্বাচন দিচ্ছেন না। সমিতির হিসাব-নিকাশে ব্যাপক গোঁজামিল নিয়ে তিনি চলছেন। আদালতে গিয়ে সমিতির নির্বাচন বন্ধ করে রেখে এসব করছেন।
“আমিও উনার কমিটিতে ছিলাম। এসব কারণে বের হয়ে এসেছি। নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত সমিতি চালানোর জন্য এফবিসিসিআই থেকে একটি কমিটি পাস করিয়ে এনেছি।”
এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দাবি আদায়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল নাজমুলবিরোধীরা। তখনও নেতৃত্ব নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় বলে সন্দেহ করছিলেন বিপিসির কর্মকর্তারা।
নাজমুল হক দাবি করেন, তারা এফবিসিসিআই থেকে একটি কমিটির কাগজ বের করেছিল। তবে এফবিসিসিআইয়ের আপিল বোর্ডে গিয়ে সেটা বাতিল করানো হয়েছে।
“এই সমিতির পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইয়ের পাঁচজন জেনারেল বডি মেম্বার বা ভোটারই এখন আমার সাথে রয়েছেন।”
অবশ্য গত ২৭ জানুয়ারি সরকার ডিজেলের কমিশন ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করেছে, উভয় পক্ষই সেই কমিশন আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

২০১৯ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হক। ফাইল ছবি
নাজমুল হক বলেন, “আমিও কমিশন বাড়ানোর পক্ষে। তবে সেটা শুরু থেকেই ধর্মঘটের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি করে নয়। এভাবে তো সরকার বিরক্ত হয়ে গেলে আমাদের দাবি আদায় হবে না। তারা বরং বিপিসির হয়ে কাজ করতে গিয়ে ধর্মঘট ডেকে পরিস্থিতি ফিলিং স্টেশন মালিকদের প্রতিকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
নাজমুল হক জানান, ডিজেলের মূল্য ৬৫ টাকা থাকার সময় তারা লিটারে ১ টাকা ৯৫ পয়সা বা শতকরা ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কমিশন পেতেন। সম্প্রতি ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বাড়ানোর পর আগের প্রচলিত হারে হিসাব করলেও লিটারে ৪৮ পয়সা বাড়ার কথা। কিন্তু সরকার মাত্র ২০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে যাতে কমিশনের হার কমে গিয়ে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়ায়। সেক্ষত্রে লোকসান দিয়ে এই প্রজ্ঞাপন মানা পাম্প মালিকদের পক্ষে সম্ভবপর নয়।
“সে জন্যই আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতি ছিলাম। গত ২৭ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটা হল। পরে দুদিন গেল সরকারি ছুটি। এর চার দিনের মাথায় আলোচনার দাবি না তুলে ধর্মঘটের ঘোষণার ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা বড় কর্মসূচির আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতি।”
পেট্রোল পাম্পগুলো বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলে ৩ টাকা ৫২ পয়সা ও প্রতি লিটার অকটেনে ৪ টাকা কমিশন বা লাভ পেয়ে থাকে। জ্বালানি খরচ ছাড়াও ট্যাঙ্ক-লরি ভাড়াও এর সঙ্গে যুক্ত।
ধর্মঘটীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা, গেজেটে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কমিশন এজেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির ইজার প্রথা বাতিল করা।
নাজমুল হক বলেন, তারা যদিও ধর্মঘট করেও তা খুলনা আর বগুড়া ছাড়া অন্য কোথাও পালিত হবেনা। এই দুই জেলার লোকজন মিলেই নিজেদের কেন্দ্রীয় কমিটি বলে দাবি করে। তারা আগেও এমনটি করেছে।