সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ
এভাবে লুকিয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল না, বললেন ওবায়দুল কাদের
Wednesday, 19 May 2021
প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেফতারের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সূত্র উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যসচিবের একান্ত সচিবের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইলে ছবি তোলেন।
বুধবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩ অনুযায়ী এ ধরণের গোপনীয় বিষয় প্রকাশযোগ্য নয়।"
সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য অধিকার আইন রয়েছে- একথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এভাবে লুকিয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল না।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে সচিবালয়ের ঘটনা তিনি জানতে পেরেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনার দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের ‘নীরবতার’ কারণে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ সৃষ্টি হয়েছে। "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কেউ সাংবাদিকদের ব্রিফ করলে এমন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি নাও হতে পারতো।"
ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নিরপরাধ হলে আদালতে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।
"আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তা বিচারাধীন, নিরপরাধ হলে আদালতে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ন্যায় বিচার পাবেন," বলেন কাদের।
বিষয়টি নিয়ে জনমনে যাতে কোন অস্থিরতা এবং অসন্তোষ তৈরি না হয় সেজন্য সাংবাদিকদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে - একথা উল্লেখ করে মি. কাদের বলেন, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের উপর কোন অন্যায় আচরণ করা হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবার কথা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের গণমাধ্যমের প্রতি কোন চাপ নেই।
দেশের সংবাদমাধ্যম প্রতিনিয়ত দুর্নীতি এবং অপরাধের নানা খবর প্রকাশ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
"যারা বলছেন দুর্নীতি সংবাদ প্রকাশ করার জন্য সরকার দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, এ বক্তব্য আদৌ সত্য নয়," বলেন মি.কাদের।