এপ্রিল-জুন সময়ে ১৮৪টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বিডা
Tuesday, 24 August 2021
চলতি ২০২১ পঞ্জিকা বছরের এপ্রিল থেকে জুন দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশ-বিদেশি ১৮৪টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। গতবছর একই সময়ে বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল মাত্র ৪৬টি প্রতিষ্ঠান।
২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শুরুর পর দীর্ঘ লকডাউনে সব কিছু থমকে গেলে উদ্যোক্তারাও সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যান। শুধু দেশে নয়, ওই সময় মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বৈশ্বয়িক মহামারীর প্রথম ঢেউেয় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য।
বিডার বিনিয়োগ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য গত এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৮৪টি দেশ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিডার নিবন্ধন নিয়েছে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১৪ হাজার ১২৮ কোটি টাকা, যা ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮ হাজার ৪৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ৩৮ হাজার ৯৬৯ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছর একই সময়ে কোভিডের ধাক্কার মধ্যে মাত্র ৪৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করেছিল। অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৮৩ কোটি ৫০ লাখ। গত বছরের তুলনায় এবছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৩৮টি।
বিনিয়োগের এই প্রস্তাবকে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনে করলেও এর বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং- সানেম এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হন।
তিনি বলেন, “বিডা থেকে নিবন্ধন ও প্রকৃত বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য থাকে। অনেকে নিবন্ধন করেন কিন্তু বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও বাধার কারণে শেষ শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগে আসে পারেন না।
“অতীতে আমরা দেখেছি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিগত, আমলাতান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক বিনিয়োগ উদ্যোগ সফল হয়নি। তাই কতটি প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিল, সেদিকেই বেশি নজর দেওয়া উচিত।“
গত বছর মহামারী শুরুর পর অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের উৎপাদন সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন বিনিয়োগের চেয়ে পুরোনো এসব সংকোচন স্বাভাবিক হলেই বরং ভালো বলে মনে করেন তিনি।
“সানেম গত এপ্রিলের ৫০০টি ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে সার্ভে করে দেখেছে, ২০২০ সালের মার্চের তুলনায় এই বছর মার্চে কারখানাগুলো ৫৭ শতাংশ রিকভারি বা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। বড় কারখানাগুলো ভালো রিকভারি করেছে, ছোটরা তুলনামূলক কম রিকভারি করেছে। তাই রিকভারিতে বেশি জোর দেওয়া উচতি।”