logo

এখন ডেঙ্গুরও মৌসুম, স্কুল শুরুর দিনে সতর্ক করলেন দীপু মনি

Sunday, 12 September 2021


মহামারীর মধ্যে দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ খোলার প্রথম দিন করোনাভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সতর্ক করলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

রোববার সকালে আজিমপুর গভার্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেছেন, মশার কামড় এড়াতে ফুল জামা, ফুল প্যান্ট কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। আর স্কুল ইউনিফরম নিয়ে এখন কড়াকড়ি করাও ঠিক হবে না।

“আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, শুধু করোনাভাইরাস নয়, তার সঙ্গে এখন ডেঙ্গুরও সিজন রয়েছে। এই যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবে, এই সময়ে ডেঙ্গু (এইডিস) মশার কামড়- এটা হবে খুব ভয়াবহ।

“সেই কারণে অনেকেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা যেন পুরো হাতা জামা, ফুল প্যান্ট পরে আসে। অভিভাবকদের সেই বিষয়টা বলব।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু থেকে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের দায়িত্ব। সে কারণে শিক্ষকদের বলব, স্কুল ইউনিফরম নিয়ে কড়াকড়ি না করাই ভালো।

“আবার দেখা গেছে গত দেড় বছরে অনেক শিক্ষার্থী পোশাক থেকে অনেক বড় হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে এখনি স্কুল ইউনিফরম তৈরি করে দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে, সেই ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতে হবে এমনিতেই।”

করোনাভাইরাস এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যেমন কাজ করবে, তেমনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও কাজ করবে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গতবছর মার্চে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমায় রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে।

মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরাসরি ক্লাস নেওয়ার বিষয়েও জোর দিচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সেজন্য ১৯ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি কক্ষে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা রয়েছে সেখানে।

রোববার ক্লাস শুরুর প্রথম দিন আজিমপুর গভার্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে একটি কক্ষ অপরিষ্কার দেখে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবার সচেতনতা একরকম নয়। যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাবেন, তাদের একটু সচেতন থাকতে হবে। স্কুলের প্রতিটা আনাচে-কানাচে খুঁজে দেখতে হবে। কোথাও যেন ময়লা না থাকে। যতটা ভালো পারা যায়, আমরা চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে নজরদারির জন্য প্রত্যেক জেলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যে কেউ এসব নম্বরে ফোন করে যদি জানান, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম সমস্যা আছে; আমরা তা সমাধানের ব্যবস্থা নেব।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, “এখন তো সংক্রমণের হার সাত শতাংশে নেমে এসেছে, এটা খুবই সুখের কথা।

“গত মাসে আমরা যখন সভা করি, আমরা যে নিন্মগামী ট্রেন্ড দেখেছিলাম, সংক্রমণের হারের উপর ভিত্তি করেই আমরা ধরে নিয়েছিলাম ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সংক্রমণের হারটা পাঁচ শতাংশে না হলেও কাছাকাছি চলে আসবে। তার ভিত্তিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিই।”

দীপু মনি বলেন, “শুধু সংক্রমণের হার নয়, আমাদের অন্য বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে, তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক- নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এইসব নানা জিনিস আমাদের মাথায় নিতে হয়েছে। আর এটাও ঠিক, বিশ্বব্যাপী সবাই বলছে করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বসবাস করতে হবে অনেক দিন।

“সে কারণেই মনে করেছি, এটা যথার্থ সময় খুলে দেওয়ার। এবং এই চিন্তাটাও মাথায় আছে, যদি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তো আমাদের সুযোগ থাকবেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে না রেখে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার।”

দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা দারুণ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ক্লাসে ফিরেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে, সবার মধ্যে একটা সাজ সাজ রব আছে। একই সঙ্গে শত শত মেসেজ, ইমেইল আছে যে (স্কুল) ‘খুলবেন না’।

“আসলে সবদিকেই মতামত আছে, তারপরেও আমাদের খোলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দারুণ একটা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল আছে। গত মাসে আমরা একটা সভা করেছি। গত সপ্তাহে সভা করার কথা ছিল, কিন্তু সেটা আমরা করতে পারি নাই। আশা করি এ সপ্তাহেই করে ফেলব। তখন জানতে চাইব, স্কুল যেহেতু খুলে ফেলেছি, উনাদের বিশ্ববিদ্যালয় আগে খুলতে পারেন কি না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকে টিকা দেওয়া হয়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “অনাবাসিকদের অন্তত এক জোজ টিকা দিয়ে উনারা ক্যম্পাসে ফেরাতে চান। সে ক্ষেত্রে উনাদের সঙ্গে আবার কথা বলব, সিদ্ধান্তটি আসলে তাদের (বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের)।”