logo

একজন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে গিয়ে সমগ্র জাতি ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: ফখরুল

Saturday, 24 April 2021


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানকে টিকা সরবরাহের একচেটিয়া সুবিধা দিতে গিয়ে আজ সমগ্র জাতিকে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে সরকার।

শনিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “টিকা সংগ্রহে স্বেচ্ছাচারিতা ও নতুন অনিশ্চয়তা গোটা জাতিকে হতাশহীন করে ফেলেছে,” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানকে টিকা সরবরাহের একচেটিয়া সুবিধা দিতে গিয়ে আজ সমগ্র জাতিকে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে ভোটারবিহীন দুর্নীতিবাজ এই সরকার।”

একই উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে আজকে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম থেকেই ভারতের বিকল্প সূত্র থেকে টিকা কেনার কথা আমরা বারবার বলেছি। যদিও এখন আমরা দেখতে পারছি, শেষ সময় এসে সরকার রাশিয়া ও চীনের সঙ্গ পাওয়ার জন্য গ্রুপ তৈরি করে ভ্যাকসিন সংগ্রহের চিন্তা করছে।”

সংবাদ সম্মেলনে লকডাউনের নামে রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “লকডাউনের নামে সরকার মূলত বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারী আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন ঘোষণা করেছে। প্রখ্যাত আলেম-ওলামাসহ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের শত শত নেতা-কর্মীকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে।”

এরকম পরিস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীদের সাধ্য অনুযায়ী ‘দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের’পাশে দাঁড়ানোর আহবানও জানান তিনি।

খাদ্যের মজুদ ‘সবচেয়ে কমে যাওয়ার’ প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এবার চালের মজুদ কম থাকায় আগে খাদ্য আমদানি করার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। মজুদদাররা মাঠ থেকে চড়া দামে ধান কিনে ফেলছে। সরকার এখনো ধান কেনা শুরু করেনি।

আমরা সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে অবিলম্বে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার আহবান জানাচ্ছি এবং স্বল্প দামে জনগণের কাছে পৌঁছাতে ওএমএস কর্মসূচী দ্রুত বাড়ানোর অনুরোধ করছি।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় টেউয়ে দেশের পরিস্থিতি ও করণীয় তুলে ধরতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘‘ভারতের পশ্চিম বাংলায় এই সংক্রমণটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সেজন্য আমরা মনে করি, ভারতের সঙ্গে স্থল পথের সীমান্তগুলো একেবারেই বন্ধ করা দরকার।”

লকডাউনের সময় বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের দেশে আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘বাইরে থেকে যারা আসবেন বিমানপথে, তাদেরকে মাত্র তিনদিন কোয়ারেন্টিন করতে হবে। যেটা আমি বিশ্বের কোথাও শুনিনি।”