একঘেয়েমি কাটানোর উপায়
সঞ্জয় দত্ত | Monday, 6 September 2021
আমাদের আশেপাশে যখন বিনোদনের হাজারটা উপায় মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে, তখনও যেন একঘেয়েমির জাল ক্রমশ জড়িয়ে ধরে মন ও মস্তিষ্ককে। দেখা গেল, কোনো কারণ ছাড়াই আপনি একঘেয়েমি বা বিরক্তি নিয়ে চুপচাপ বসে আছেন। আবার কী কারণে এমন অনুভূতির উদয়, তা খুঁজতে গিয়ে মহা মুশকিলে পড়লেন। কারণটা অজানা। এই গুরুতর সমস্যাটির মুখোমুখি কমবেশি আমরা সবাই হই। আমাদের আজকের আয়োজনে এই একঘেয়েমি কাটানোর খুব সাধারণ কিছু উপায় সম্পর্কে জানাব।
বই পড়ুন
আপনি যে ধরনের বই পড়ে আনন্দ পান, তা নিয়ে ঝটপট বসে পড়ুন। এক্ষেত্রে, সহজবোধ্য ভাষায় লেখা বইগুলোতে চোখ বোলানো যায়। এতে ভাবনা ছাড়া বোধগম্যতায় আরাম আসে, যা ভেতর থেকে স্বস্তি দেয়।
পুরনো সিনেমা
পুরান চাল ভাতে বাড়ে। সাদাসিধে কথা। পরিচিত কথা। বিরক্তি বা একঘেয়েমি কাটানোর ক্ষেত্রে পুরনো সিনেমা দর্শনও ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। আর কে না জানে, মানুষ বরাবরই স্মৃতিকাতর হয়। হয়তো পুরনো সিনেমার ডালি মেলে ধরতেই, ফেলে আসা নান্দনিক এক মুহূর্ত ভাসিয়ে নিতে পারে আনন্দের মাজারে।
চিঠি লিখুন
প্রযুক্তির স্পর্শে চিঠি আদান-প্রদানের দিনগুলো যেন গতপ্রায়। তবে, পৃথিবীতে এখনো যেহেতু কাগজ-কলমের অস্তিত্ব রয়েছে, চাইলে একখানা পত্র লেখাই যায়। বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সাথে চিরকুট বিনিময়, ভাব বিনিময়, নিমেষেই হয়তো আপনার বিরক্তি কাটিয়ে তুলতে পারে।
বাগানবিলাস
বিরক্তির ডেরা থেকে বাঁচতে, নিড়ানি নিয়ে নেমে পড়ুন এখুনি। কী ভাবছেন? বিরক্তিকে মেরে হাড়গোড় ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে নিড়ানির আগমন? না, তা মোটেই নয়। বাড়ির কাছে, কিংবা ছাদে, ফাঁকা জায়গায় ফুলগাছ লাগানো যায়। এতে বেশ ভালো লাগার পাশাপাশি, প্রিয়জনের অনুভূতির পাতে আপনার স্বহস্তে লাগানো ফুল দেয়ার সুযোগটুকুও কিন্তু মেলে।
তালিকা তৈরি
আগামী পাঁচদিন কী খেতে চান, কোথায় যেতে চান, কার সাথে মিষ্টি-মধুর ঝগড়া পাকানো যায়, কিংবা হোটেলে খেয়ে দেয়ে কোন বন্ধুটির ঘাড়ে বিল পরিশোধের দায় চাপাতে চান, মোদ্দাকথা, হাস্যকর, রসাত্মক যা-কিছু মাথায় আসে, তার একটা তালিকা তৈরি করুন। খুব অজান্তেই হয়তো হেসে উঠবেন, এদিকে হাওয়া হবে বিরক্তি।
নাচুন
চট করে দরজার ছিটকিনিতে লাগান হাত। মিউজিক বাক্সে ছাড়ুন প্রিয় গান। এবার সমগ্র শরীর যথাসম্ভব ঝাঁকিয়ে এলোমেলো কায়দায়ই খুঁজে নিন আনন্দ। এ নাচে আনন্দ বৈ তেমন কোনো উদ্দেশ্য নেই, আপনি ছাড়া নেই দর্শকও। তাই নিজের ডানা মেলে দিন নৃত্যের ছন্দে।
বেরিয়ে পড়ুন
খুব না ভেবে, পছন্দের জায়গার উদ্দেশে পা বাড়ান। যা যা করতে মন চায়, করুন, প্রাণ ভরে ঘুরুন। এতে একা কিংবা কারো সঙ্গ নিতে চাইলে নিতে পারেন৷ আবার মানসিক দুয়ারে খোঁজাখুঁজি করলে দেখা যায়, ত্যক্ত-বিরক্ত হওয়া দিনে, একটু নদী, স্রোত, নৌকো কিংবা সমুদ্রের আশেপাশে ঘুরঘুর করা গেলে, জীবনটাকে আমোদের কারখানা বলেই মনে হয়!
আঁকুন
মন্দ লাগা দিনে, আঁকিবুঁকি ব্যাপারটি বেশ ভালো জমে। মাথায় যা ঘুরপাক খায়, তা-ই আঁকুন, পছন্দের সিনেমার কোনো চরিত্র, প্রিয় লেখকের ছবি, অথবা কাছের যেকোনো মানুষের ছবি এঁকে তাকে দেখানো যায়। আর আঁকতে যদি একেবারেই পারদর্শী না মনে করেন নিজেকে, তবে হিজিবিজি এঁকেই নাহয় দূর করুন বিরক্তিকে।
সৃজনশীলতা চর্চা
প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে সৃজনশীল। কিন্তু অনেকেই হয়তো বুঝে উঠতে পারে না, কিংবা খুঁজবার চেষ্টাটুকুও করে না। এক্ষেত্রে, ভালো না লাগা দিনে, খাতা-কলমে অনুভূতিগুলো লিখে ফেলার চর্চা বেশ ভালো কাজে আসে। এতে নিজের সৃজনক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি; নতুন কিছু লিখে ফেলার আনন্দে, ভেতরে একধরনের উৎসব কাজ করে, যা একইভাবে বিরক্তি থেকেও পরিত্রাণ দেয়।
কক্ষ ওলটপালট
এমনদিনে, বহুদিন একই জায়গায় থাকা বিছানা, টেবিল কিংবা কক্ষের জিনিসপাতিগুলোর জায়গা অদলবদল করুন। এতে বেশ রোমাঞ্চকর একটা আমেজ কাজ করে। মনে হয়, সবকিছুই যেন নতুন।
নতুন দক্ষতা
জ্ঞানই আনন্দ। আপনি নতুন যা-কিছু শিখবেন, জানবেন, তা আপনাকে ভালো বৈ মন্দ কিছু দেয় না। আসলে একই কর্মে বারবার আটকে থাকতে থাকতে অনেকসময় একঘেয়েমি বা বিরক্তি আসাটা খুব স্বাভাবিক। তখন নতুন কিছুতে মনোনিবেশ করা গেলে, সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
জীবনকে বৃত্ত মনে করা হলে, একটি বৃত্তে অসংখ্য ফাঁকা জায়গা থাকে, সে জায়গায় সবকিছুরই একটা মেলবন্ধন থাকা দরকার। একই ব্যাপারে বেশি মনোযোগ ধরে না রেখে, সর্বোপরি জীবনের সুখ খুঁজে নেয়াই আমাদের একমাত্র ব্রত হোক।
সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।