logo

উদ্যোক্তাদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৫০০ কোটির তহবিল

সিদ্দিক ইসলাম | Saturday, 13 March 2021


দেশে উদ্যোক্তাদের বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ বা ব্যবসায় উদ্যোগ পুনঃতহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সভায় সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভাগগুলো পুনঃতহবিলের বিভিন্ন শর্তাবলী উল্লেখ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, “দেশের উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ তহবিল গঠনের অনুমতি দিয়েছে”।

স্টার্টআপ হলো এমন একটি উদ্যোগ, যার বৃদ্ধি নির্ভর করে বাজারে এর পণ্য ও পরিষেবার চাহিদার উপর। বাজারে যে পণ্যটি নেই, তার চাহিদা অনুযায়ী তা বাজারে সরবরাহ করে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াই এর বৈশিষ্ট্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শীঘ্রই বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের নীতিমালা ঘোষণা করবে, যার অর্থ বিলি হবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সংস্থান থেকে।

তিনি জানান, “তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফার এক শতাংশ পরিমাণ অর্থ এই তহবিলের জন্য জমা রাখবে”।

ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের উদ্যোক্তা অর্থনীতি প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো: মাহবুব আলী  তহবিল সঠিকভাবে কাজে লাগানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “যদি এই তহবিল ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে অবশ্যই এ অর্থ দেশের উদ্যোক্তাদের বিকাশে ব্যাপক সাহায্য করবে”।

২০১০ সালের দিকে শুরু হওয়া স্টার্টআপ সময়ের সাথে সাথে উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে।

লাইটক্যাসেল পার্টনারস নামক একটি পরামর্শ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে স্টার্টআপের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের বেশি, যা প্রযুক্তিগত সুবিধার সাথে মিলে আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্টার্টআপ বিকাশের জন্য বাংলাদেশে শক্তিশালী একটি পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও এ সংস্থার মতে দেশের এই উদ্যোগগুলো বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়। সংস্থাটি এখানে তিনটি বাধার কথা উল্লেখ করে।

প্রথমত, পরামর্শদাতা এবং পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে উদ্যোগগুলো হোঁচট খায়। সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য এক্সিলারেটর ও ইনকিউবেটর প্রোগ্রামের যথাযথ প্রয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে এ বাধা দূর করা যাবে বলে তারা মনে করেন।

দ্বিতীয়ত, বাজারে অসাধু কারবারের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এতে অনেক ব্যবসা শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায়।

সবশেষে, সমাজের প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখানে বাধা হিসেবে কাজ করে। প্রবীণ প্রজন্মের প্রচলিত ধারণা হলো, কেবল সম্মানজনক চাকরির অভাবেই একজন ব্যক্তি ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চরম শিকার হয়ে আমাদের তরুণ সমাজ চাকরির ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ না নিয়ে বরং সম্মানজনক চাকরির জন্যেই অপেক্ষা করতে থাকে।