ঈদযাত্রা: সড়কে অনেক প্রস্তুতি, তবুও শঙ্কা
এফই অনলাইন ডেস্ক | Wednesday, 27 April 2022
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিধিনিষেধের মধ্যে চারটি ঈদ পার হলেও এবারের ঈদযাত্রায় নেই সেই বিধি-নিষেধ, ফলে এবার ঘরমুখী মানুষের ঢল ছোটার অনুমান আগে থেকেই। ঈদযাত্রায় সড়কে চাপ সামলাতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের শঙ্কা কাটছেই না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কোভিডের পর এবার ঈদযাত্রায় সড়কে বেশি চাপের আশঙ্কার পাশাপাশি চাপ সামলাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“পরিবহন মালিকদের কিছু সুপারিশ ছিল, আমরা সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছি। যানজট যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে, ডেডলক যাতে না থাকে।”
তবে এখনও কিছু কিছু জায়গায় সড়ক উন্নয়নের কাজ অসম্পন্ন থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
উত্তরের পথে প্রস্তুতি
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় যাওয়ার সড়কটি যেমন লম্বা, পথে পথে বাধাও অনেক। যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে রংপুর পর্যন্ত চলছে চার লেইন সড়ক তৈরির কাজ। এই কাজের জন্য অনেক জায়গায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে, রাস্তার অবস্থাও তেমন ভালো না।
তবে জয়দেবপুর মোড় থেকে এলেঙ্গা মোড় পর্যন্ত নাওজোর, সফিপুর ও গোড়াই এলাকায় নির্মাণাধীন তিন ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঈদের আগেই।
পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নলকা সেতুর এক পাশও খুলে দেওয়া হয়েছে যান চলাচলের জন্য। এর আগে হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনায় আরও একটি নির্মাণাধীন সেতুর একপাশ খুলে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সড়ক থেকে চান্দাইকোনা বাজার পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সেতু থেকে হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার। উত্তরের ১৬ জেলা আর দক্ষিণের ছয় জেলার সব যানবাহনকে এই ২২ কিলোমিটার অর্থাৎ হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে হয়।
এরপর চৌরাস্তা থেকে তিনটি মহাসড়ক তিন দিকে গেছে। একটি নাটোর-বনপাড়ার দিকে, একটি হাটিকুমরুল-বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি হাটিকুমরুল-পাবনার দিকে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সেতু থেকে হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কে।
সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কড্ডা মোড়, পাঁচলিয়া বাজার, হাটিকুমরুল চৌরাস্তা ও চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় ইট ও মাটি ফেলে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার অংশে ছয় লেইন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ এখনও দুই লেনের এবং সড়কে কোনো ডিভাইডারও নেই। এই সড়কের উভয় পাশ দিয়ে যান চলাচল করে। যানবাহনের চাপ একটু বাড়লেই এখান থেকেই মূলত সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত গাড়িগুলো আটকে যায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ভূঞাপুর দিয়ে বিকল্প পথে পাঠানোর পরিকল্পনাও হয়েছে।
পরিবহন মালিকদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উত্তরবঙ্গ সড়কের কথা যদি বলা হয়, তাহলে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ওই ১২ কিলোমিটার রাস্তায় কোনো ডিভাইডার নাই। এক রাস্তার দুই পাশ দিয়ে গাড়িগুলো চলছে। এটার জন্য হাইওয়ে পুলিশ পরিকল্পনা করছে ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ভূঞাপুরের ভেতর দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরিয়ে দিলে এই রাস্তাটার ওপর দিয়ে চাপ কম পড়ে।”
সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় এলাকায় সড়কে উন্নয়নের কাজ ঈদের সময়ে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কড্ডার মোড়ে যেখানে ফ্লাইওভার হচ্ছে, ওখানে মাঝে মাঝে ওয়ানওয়ে করে দেয়, আবার মাঝে মাঝে গাড়ি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। ঈদের সময় তারা সেটা করবে না বলেছে। রাস্তা কার্পেটিং না হোক রাস্তা তো যাবার উপযুক্ত হয়েছে, সেটা খুলে দেওয়া হবে।”
সোমবার বিআরটিএতে চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভা করেছেন জানিয়ে রমেশ বলেন, “আমরা অনুরোধ করেছি, ঈদের সময়টাতে কাজ বন্ধ রাখতে। ওদের বড় বড় ডাম্প ট্রাকগুলো ঘোরানো, মাল ফেলা এসবে রাস্তা বন্ধ করতে হয়। কাজ বন্ধ থাকলে ট্রাকও বন্ধ থাকবে যাতে করে একটু ধীরে হলেও ঈদের যাত্রীবাহী গাড়িগুলো এগোতে পারে।”
নলকা সেতুর কথা তুলে ধরে রমেশ বলেন, এখানে প্রায়ই রাস্তা আটকে একদিক থেকে গাড়ি ছাড়তে হত। সোমবার বিকেলে নতুন নলকা সেতুর এক পাশ খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরনোটা দিয়েও একদিকের গাড়ি চলবে।
সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার পথের অবস্থা জানিয়ে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, “সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বগুড়ার দিকে যেতে রাস্তার যে কাজ হচ্ছে তাতে অনেক জায়গাতেই রাস্তা চিকন হয়ে গেছে।
“বগুড়া শহরের রেল ক্রসিংয়েও জ্যাম পড়ে। এসব জায়গায় যেন ব্যবস্থাপনা একটু ভালো হয় যাতে গাড়িগুলো ‘স্মুদলি’ পার হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেছি আমরা। তারপর আমরা বলেছি নবীনগরে, বাইপাইল মোড়ে যেন ভিড় না হয়।”
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, “টাঙ্গাইলে যে দুটো ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে, এটা খুব গুরুত্বপুর্ণ। ভালো ব্যবস্থাপনা থাকলে হয়ত এই পথে পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে।
দেশের অন্যতম বড় পরিবহন কোম্পানি হানিফ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো. কফির উদ্দীন সড়কে ব্যবস্থাপনায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিকদেরও এগিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, স্থানীয় রাজনীতিকরা যদি কিছু লোকজন নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় এগিয়ে আসেন তাহলে পরিস্থিতি সহনীয় রাখা সম্ভব।
ঢাকা-ময়মনসিংহে ভোগান্তির ১২০ কিলোমিটার
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ১২০ কিলোমিটার পথ যাত্রীরা আগে দুই ঘণ্টায় যেতেন। কিন্তু বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরুর পর পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাগে। সাপ্তাহিক ছুটির আগে গাড়ির চাপ বেশি থাকলে আট থেকে নয় ঘণ্টাও লেগে যায়।
প্রায় এক দশক ধরে এই ভোগান্তি পোহানো যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এবারও একই ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন।
তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম বলছেন, “ইতোমধ্যে আমরা রাস্তাটা চলাচল যোগ্য করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় কাজ সম্পন্ন করেছি। ঈদের আগে এসব রুটে যানজট কমাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে যৌথ পরিদর্শনের সময় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার হবে।”
সেতু সচিব বলেন, “বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যে গাড়িগুলো আসবে...এদিকে তারাকান্দা, মধুপুর, ঘাটাইল দিয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহে যাওয়ার একটা রাস্তা আছে। ময়মনসিংহ-জামালপুরের গাড়িগুলো সেদিক দিয়ে ডাইভার্ট করার একটা অপশন আমরা রেখেছি।”
তবে সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর ‘ভরসা রাখছেন না’ বাস মালিকরা। বাস মালিকদের নেতা এনায়েত উল্যাহ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমরাও জেনেছি। আমাদের একটু সন্দেহ হচ্ছে গাজীপুর থেকে টঙ্গীর রাস্তাটা নিয়ে।
“তবে কর্তৃপক্ষ আমাদের যেভাবে বলেছে, ঠিক সেভাবে যদি ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে হয়ত ভোগান্তি ততটা হবে না।”
বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি আরও বেশি হওয়ার কথা জানিয়ে শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ বলেন, “টঙ্গীর পর থেকে গাজীপুরের মাওনা পর্যন্ত রাস্তা অনেক খারাপ। এখানে যাতে আরও পুলিশ দেওয়া হয়, সেটা আমরা কর্তৃপক্ষকে বলেছি। যাতে অন্তত ডেডলক না হয়ে যায়।”
ফেরিঘাটের পথে ভোগান্তি
পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার আগে এটাই হতে পারে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ভোগান্তির শেষ ঈদ।
তবে পদ্মা সেতু খোলার আগে এই ঈদে ফেরিঘাট নিয়ে শঙ্কার প্রকাশ করে শ্যামলী পরিবহনের রমেশ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরেই ফেরিঘাটের যানজট জানান দিয়েছে, ঈদের ভোগান্তি অবশ্যম্ভাবী।”
তিনি বলেন, “বিআরটিএর সঙ্গে সভায় আমরা ফেরিঘাটের কথা বলেছি। ঘাট ঠিক নেই, পন্টুন ঠিক নেই, এ কথাগুলো যেন শেষ সময়ে শুনতে না হয় সেটা আমরা বলেছি।
“মাওয়া-কাঁঠালিয়া ঘাটে যদি বাস পার না হয়ে বাসগুলো যদি পাটুরিয়ার ওপর দিয়েও যায় তাহলেও ওখানে একটা যানজট সৃষ্টি হবে। ফেরির ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর কথা বলেছি আমরা। ওরা তো আর রাতারাতি ফেরি কিনে আনতে পারবে না।”
এনা পরিবহনের এনায়েত উল্যাহ বলেন, “ফেরিঘাটে তো জ্যাম হবেই। ফেরিঘাটের অবস্থা তো খারাপ।”
এবারের ঈদ যাত্রায় ২২টি ফেরিসহ দুই পাড়ে পাঁচটি ঘাট রাখার উদ্যোগ নেওয়ার খবর জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির মানিকগঞ্জের আরিচা বন্দরের উপ-পরিচালক মো. খালেদ নেওয়াজ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এরই মধ্যে বিকল ফেরিগুলো মেরামত করা হয়েছে। দৌলতদিয়াতে চারটি এবং পাটুরিয়াতে চারটি ঘাট আছে। ঈদের আগে দুই পাড়ে পাঁচটি করে ঘাট সচল রাখা হবে।”
এছাড়া যানবাহনের বাড়তি চাপ কমাতে ঈদের তিন দিন আগে ও পরে বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার।
টোল প্লাজায় সমস্যা ভাংতি টাকা না থাকা
বাস মালিকরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তেমন কোনো সমস্যা নেই। রাস্তা ভালো। ঈদের সময় হয়ত ঢাকা থেকে বের হতে বা রাস্তায় যাত্রী ওঠানোর কারণে একটু ভিড় হয়। তবে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় যানজট তৈরি হয়।
এই পথ ধরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, লক্ষীপুরসহ তিন পার্বত্য জেলার মানুষ বাড়ি ফেরে।
শ্যামলী পরিবহনের মালিক বলেন, সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীর পথে কিন্তু তেমন সমস্যা নেই। মেঘনা সেতুর টোল প্লাজার যানজট বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
“আলোচনায় বলা হচ্ছে, চালকেরা যেন টোলের সমপরিমাণ ভাংতি টাকা হাতে রাখেন। তাহলে সময় নষ্ট কম হবে।”
প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে যারা যাবে, তারাও যেন ভাংতি টাকা হাতে রাখেন সেই অনুরোধ করেন তিনি।
মেঘনা টোল প্লাজা নিয়ে এনায়েত উল্যাহ বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ড্রাইভারেরা ভাংতি টাকা রাখে না। কিন্তু ওখানে এই টাকা ভাঙানোর চক্করে প্রতি গাড়িতে এক মিনিট লেইট হলেও পেছনে কিন্তু অনেক গাড়ি জমে যাচ্ছে।
“এটা ছাড়া দুর্ঘটনার ফলে যদি রাস্তা বন্ধ না হয়ে যায় তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তেমন সমস্যা দেখি না। রোড তো ভালো।”
যানজট এড়াতে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় যানজট এড়াতে ঈদের সময় বিকল্প কোনো উপায়ে টোল আদায় করা উচিৎ বলে মনে করেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক কফিল উদ্দীন।
“মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় বিকল্প উপায়ে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিৎ। আর না হলে একেবারে টোলবিহীন করে দেওয়া যেতে পারে অন্তত ঈদের সময়টা।”
Editor : Shamsul Huq Zahid
Published by Syed Manzur Elahi for International Publications Limited from Tropicana Tower (4th floor), 45, Topkhana Road, GPO Box : 2526 Dhaka- 1000 and printed by him from City Publishing House Ltd., 1 RK Mission Road, Dhaka-1000.
Telephone : PABX : 9553550 (Hunting), 9513814, 7172017 and 7172012 Fax : 880-2-9567049
Email : editor@thefinancialexpress.com.bd, fexpress68@gmail.com