ইউপি ভোট: সপ্তম ধাপে নৌকা ৪০, স্বতন্ত্র ৮৬
এফই অনলাইন ডেস্ক | Wednesday, 9 February 2022
ইউনিয়ন পরিষদের সপ্তম ও শেষ ধাপের ধাপের নির্বাচনে জয়ী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা নৌকার প্রতীকে জয়ীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সপ্তম ধাপে ১৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরদিন মঙ্গলবার একীভূত ফলাফলের তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান।
তাতে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ৪০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পার্টি ৩টিতে এবং জেপি ১টি ইউপিতে জয় পেয়েছে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে ৮৬টি ইউনিয়নে। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকই আওয়ামী লীগেরই নেতা।
আবার দলীয় প্রতীক নিয়ে কোন্দলে নাকাল আওয়ামী লীগ সপ্তম ধাপে অনেক ইউনিয়নে কাউকে নৌকা প্রতীক না দেওয়ায় তার ফলে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক।
গত বছরের মাঝামাঝিতে ইউপি ভোট শুরুর পর ছয় ধাপের ভোটের মধ্যে প্রথম তিন ধাপে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বেশি ইউনিয়নে জয় পেয়েছিল।
চতুর্থ ধাপে নৌকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় সমান সমান হয়ে যায়। ষষ্ঠ ধাপে নৌকার প্রার্থীরা বেশি ইউনিয়নে জয়ী হলেও সপ্তম ধাপে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি এগিয়ে গেল।
পাঁচ বছর আগে দলীয় প্রতীকের প্রথমবারের ভোটে নৌকা প্রতীক জয় পেয়েছিল ২ হাজার ৬৭০ ইউপিতে। বিএনপি ৩৭২ ইউপিতে আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮৮০ ইউপিতে জয় পায়।
এবার সাত ধাপ মিলিয়ে ৪ হাজার ১২০টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকার প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছে ২ হাজার ৬৬টিতে; স্বতন্ত্ররা জয় পেয়েছে ১ হাজার ৭৭৮টিতে।
এছাড়া জাতীয় পার্টি, জেপি, জাসদ, ইসলামী আন্দোলন, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জাকের পার্টির প্রার্থীরাও জয় পেয়েছেন কিছু ইউপিতে।
কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের এটাই শেষ নির্বাচন।
বিএনপিসহ বিভিন্ন দল এবারের নির্বাচন বর্জন করার পর অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ঘোষিত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে একই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর। আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংঘাত-সহিংসতায়ও গড়ায়।
সোমবার যে ১৩৬ ইউপিতে ভোট হয়, তাতেও অনিয়মের কারণে চেয়ারম্যান পদে ভোট স্থগিত হয় কয়েকটিতে।
ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, সপ্তম ধাপে ব্যালট পেপারে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশের মতো। আর ইভিএমে পড়েছে ৬১ শতাংশের মতো।
তিনি বলেন, “সার্বিকভাবে ভোট ভালো হয়েছে। দুজন ব্যক্তি নির্বাচনী সংহিসতায় মারা গেছে। তারা ভোটকেন্দ্রের বাইরে মারামারিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
“নির্বাচন কমিশন জীবনহানি আশা করে না। কিন্তু এরপরও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে গেছে,” বলেন তিনি।