ইউক্রেইনে যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে, আরও একা হয়ে পড়ছে রাশিয়া
এফই অনলাইন ডেস্ক | Tuesday, 1 March 2022
ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরুর জেরে ক্রমশ বিশ্ব থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে রাশিয়া, তবে যুদ্ধ থামানোর কোনো ইংগিত এখনও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তরফ থেকে দেখা যাচ্ছে না। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বেলারুশের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও রাশিয়া আক্রমণ থামায়নি। তাদের ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে চলার খবর আসছে। সেই সঙ্গে আসছে ইউক্রেইনের তীব্র প্রতিরোধ আর তুমুল লড়াইয়ের খবর।
শত শত মানুষের মৃত্যু আর প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় ধরনের শরণার্থী সংকট তৈরি করা এ যুদ্ধ মঙ্গলবার গড়িয়েছে ষষ্ঠ দিনে।
রয়টার্স লিখেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কিয়েভের বিরুদ্ধে মস্কোর সেনা অভিযান শুরুর পর দ্রুত সফলতা পাওয়ার যে প্রত্যাশা প্রেসিডেন্ট পুতিনের ছিল, তা পূরণ হয়নি।
সোমবার ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তাতে কোনো ফল আসেনি এবং পরের বৈঠকের সূচি নিয়েও কিছু জানাননি মধ্যস্ততাকারীরা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বুকে সবচেয়ে বড় সেনা অভিযান শুরু করায় রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে শায়েস্তা করার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। রাশিয়ার কর্মকর্তা, শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, এমনকি প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধেও তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনা পাঠানো বা একটি নো-ফ্লাই জোন (উড়ান নিষিদ্ধ অঞ্চল) ঘোষণার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেরকম কিছু করতে গেলে দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে লড়াই বাধার ঝুঁকি দেখছেন ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা।
তার বদলে কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো।
ইউক্রেইনের প্রেডিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতে বলেছেন, “কিয়েভ সারাক্ষণ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শত্রুপক্ষের জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট। আমরা রাজধানীর প্রতিরক্ষা ভাঙতে দিইনি তাদের, তারা নাশকতাকারীদের পাঠিয়েছিল নাশকতা সৃষ্টির জন্য, আমরা সবগুলো নস্যাৎ করেছি।”
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সেনারা একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করছিল যেটা থেকে ৩০ লাখ বাসিন্দার কিয়েভে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
রাশিয়া দাবি করে আসছে, ইউক্রেইন দখল করা তাদের এই সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য নয় বরং তারা প্রতিবেশী দেশটির সামরিক সামর্থ্য ধ্বংস এবং সেখানকার ‘বিপদজনক জাতীয়তাবাদীদের’ গ্রেপ্তার করতে চায়।
পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ এবং দক্ষিণে বন্দরনগরী মারিওপোলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। ইউক্রেইনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার গোলার আঘাতে ডজনখানেকের বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার জানিয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে তারা দেখতে পেয়েছে রাজধানী কিয়েভ দখলের জন্য সাজোঁয়া যান, ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের একটি বহর পাঠিয়েছে রাশিয়া, যার দৈর্ঘ্য ৪০ মাইল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে আলোচনার পর মঙ্গলবার ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্র কুলেবা বলেছেন, তার দেশের প্রতি সমর্থন আরও দৃঢ় করতে ওয়াশিংটন আরও অস্ত্র সরবরাহ ও অবরোধ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।
এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, “ইউক্রেইন শান্তি চায়, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাশিয়ার আক্রমণের মুখে আছি, আমাদের আরও অস্ত্র এবং রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা দরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন আমাকে দুটোর ব্যাপারেই আশ্বস্ত করেছেন।”
রাশিয়া ছাড়ছে বেসরকারি খাত
ইউক্রেইনে সামরিক অভিযান চালানোর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বহুজাতিক ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো।
তেল-গ্যাস কোম্পানি শেল, বিপি এবং নরওয়ের একুইনর জানিয়েছে, তারা রাশিয়া থেকে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নেবে এবং সেদেশের তেল ও গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অন্য পশ্চিমা কোম্পানি যেমন এক্সনমোবিল ও টোটালএনার্জিকেও তাদের পথ অনুসরণে চাপ দেবে।
শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যাংক, বিমান পরিহন সংস্থা, ও গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি রাশিয়ার পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে সেদেশের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব ছিন্ন এবং পণ্য ও সেবা সরবরাহ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য সম্পদের ওপর নতুন অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে রাশিয়ার বেশকিছু ব্যাংককে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক এসব অবরোধের ধাক্কায় হু হু করে নেমে যাচ্ছে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের বিনিময় হার।
রাশিয়াকে আরও একঘরে করতে সোমবার ইউয়েফা ও ফিফা দেশটির সদস্যপদ বাতিল করেছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রুশ খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।