logo

আলেশা মার্টের কাছে গ্রাহকের পাওনা ৩০০ কোটি টাকা

এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 17 February 2022


আগাম অর্থ নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ই-কমার্স কোম্পানি আলেশা মার্টের কাছে গ্রাহকের পাওনা  দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে থাকা এই কোম্পানিটি নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রি করে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গ্রাহকের এই পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক পর্যালোচনা সভায় আলেশা মার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মনজুর আলম সিকদার সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

“গত জুলাইয়ে ঝামেলা শুরুর পর ৩০০ কোটি টাকার মতো একটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল। এরই মধ্যে আমরা গ্রাহকের ১৩ কোটি টাকার মতো ফেরত দিয়েছি। এখন পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে যাচ্ছে আরও ৪২ কোটি টাকা।”

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ৪২ কোটি টাকা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানান তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

মনজুর আলম বলেন, “আমার ধারণা আমাকে আরও ২৩০ কোটি টাকার মতো কোনো না কোনোভাবে বা আমার অন্যান্য যেসব কোম্পানি আছে সেখান থেকে কিংবা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ফেরত দিতে হবে।

“আমাদের ব্যাংকিং ট্রানজেকশন ভেরি গুড। আশা করছি খুব সহসাই আমরা এটা সমাধান করে ফেলতে পারব। আগামী জুনের মধ্যে সব টাকা পরিশোধ করে দেব।”

তবে অল্প সময়ের মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার লোকসানে পড়ে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনো ব্যাংক ঋণ দেবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে।

দেশে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অবস্থা তুলে ধরে আলেশা মার্টের সিইও মনজুর আলম বলেন, “অসুস্থ একটা প্রতিযোগিতা ছিল ই-কমার্সে। কেউ ১০ শতাংশ দিলে আরেকজন ১২ শতাংশ মূল্যছাড় দিয়েছে।

“আমরা চেয়েছিলাম নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী একটা মূল্যছাড় দিতে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে কিছু কিছু কোম্পানি টাকা কালেকশনের জন্য মূল্যছাড় কৌশলকে ব্যবহার করেছে।”

নিজের কোম্পানির কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা একটা গ্রুপ অব কোম্পানি। আমাদের একটা কৌশল ছিল। আমরা চেয়েছিলাম নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী পণ্যের মূল্যছাড়ের পেছনে কিছু টাকা বিনিয়োগ করব।

“এর বিপরীতে একটা শক্ত গ্রাহক শ্রেণি তৈরি হবে। এবং বাস্তবে তাই হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে ১৭ লাখ গ্রাহক তৈরি হয়েছিল। এর মানে হচ্ছে ডিজিটাল কমার্স বাংলাদেশের ফিউচার।”

মনজুর আলম বলেন, “আমাদের ক্যাশ টাকা ছিল না, তাই দিতে পারিনি। কিন্তু আমাদের অ্যাসেট আছে, রেভিনিউ স্ট্রাকচার আছে। এই টাকা ফেরত দেওয়ার ক্যাপাসিটি আছে।”

গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে দীর্ঘ সময় পরও পণ্য না দেওয়া, অর্থ ফেরত না দেওয়াসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ নিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে আলোচনা শুরু হয়।