logo

আপফেস্ট: ইউরোপের গ্রাফিতি শিল্পীদের মিলনমেলা

সুরাইয়া ফাতিমা | Saturday, 4 June 2022


রাস্তার পাশে বিভিন্ন দেয়ালে অনেক রকম চিত্র আঁকা দেখা যায়। এই চিত্রগুলো ব্যবহার করা হয় জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম হিসাবে। এভাবে স্প্রে পেইন্ট বা রংতুলিতে চিত্র এঁকে মনের ভাব ফুটিয়ে তোলার পদ্ধতিটি গ্রাফিতি নামে পরিচিত।

এই ধরনের ছবি আঁকা নিয়ে বিশ্বজোড়া অনেক প্রদর্শনী – উৎসব হয়ছে। কিন্তু গ্রাফিতি বা স্ট্রিট আর্ট নিয়ে সবচেয়ে বড় যে উৎসব হয় তার নাম হলো আপফেস্ট। আপফেস্ট হলো ইউরোপের সবথেকে বড় গ্রাফিতি উৎসব যেখানে গোটা ইউরোপ থেকে আর্টিস্টরা আসে তাদের আঁকা গ্রাফিতিগুলো প্রদর্শন করতে।

সম্প্রতি ইউরোপের ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত হয়েছে আপফেস্ট ২০২২। এবারের উৎসবে আর্টিস্ট এসেছিলো প্রায় ৪০০ এর মতো। আর তাদের চিত্রকর্ম দেখতে ব্রিস্টলের বেডমিনস্টার আবারো সরগরম হয়ে ওঠে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগমে।

বর্তমানে যে বিপুল সংখ্যক আর্টিস্ট ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায় আপফেস্টের শুরুর চিত্র ছিল তার ব্যতিক্রম। আপফেস্টের উদ্দ্যেশ্য ছিল এমন একটি উৎসব আয়োজন যেখানে কিছু সমমনা আর্টিস্টরা মিলিত হবে এবং দিনটি তারা গ্রাফিতি এঁকে কাটাবে।

এই ধারণার বাস্তবায়ন করতে ব্রিস্টলের তামাক ফ্যাক্টরিতে ২০০৮ সালে উদযাপিত হয় প্রথম আপফেস্ট উৎসব। প্রথম আপফেস্টে শিল্পী ও দর্শনার্থী ছিল ৪০ জন। এরপর থেকে প্রতিবছরই উদযাপিত হয় আপফেস্ট। প্রতিবছরে আপফেস্টের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।  

আপফেস্ট তাদের দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরে তাদের গ্রাফিতি আর্টের মাধ্যমে। ব্রিস্টলে বসবাসকারী কমিউনিটির জীবনযাত্রা এবং তাদের সংস্কৃতিকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করা, এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আপফেস্ট তার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই উৎসবের মাধ্যমে কমিউনিটিতে বসবাসকারী জনসাধারণের মধ্যে যেমন প্রফুল্লতার সৃষ্টি হয় তেমনি গোটা ইউরোপসহ ভিনদেশীদেরকেও এই উৎসব উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

আপফেস্টের আরেকটি লক্ষ্য হলো মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা। আপফেস্ট থেকে প্রতিবছর ফান্ড সংগ্রহ করা হয়। এই ফান্ডের অর্থ ব্যয় করা হয় ন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর চিলড্রেন অব অ্যালকোহলিকস – এর সহায়তায়। এই ফাউন্ডেশনটি সেই শিশুদেরকে বিনামূল্যে সহায়তা করে যারা তাদের বাবা-মা এর মাদক গ্রহণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের জন্য ফোন কলের ব্যবস্থা করা হয় যেখানে গোপনীয়তা রক্ষা করে তাদের সমস্যার কথা তারা জানাতে পারে।

এছাড়াও আপফেস্ট উপলক্ষ্যে মুক্ত চিত্রাঙ্কন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গ্রাফিতি ওয়ার্কশপ, ব্যান্ড সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়। গ্রাফিতির সাথে হিপ হপ ধাঁচের পরিবেশনার যেন এক প্রচ্ছন্ন যোগাযোগ বেশ গাঢ়ভাবে চলে আসে পাশ্চাত্যে। গানে, প্রতিযোগিতায়, শিল্পীদের সরাসরি চিত্র আঁকানো এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতে উৎসবটি আনন্দের সাথে পালিত হয়। এবারের আপফেস্ট উৎসবে অন্যান্য সঙ্গীত পরিবেশনাকারীদের মধ্যে ছিল সাম্বা ও ব্যান্ড বাটালা ব্রিস্টল।

এই উৎসব ছাড়াও আপফেস্টের আলাদা একটি গ্যালারি আছে সাউথ ব্রিস্টলে। সেখানে আপফেস্টের নেতৃত্বে ছবি প্রদর্শনীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং পাবলিক সব ধরনের কাজ করা হয়।

সুরাইয়া ফাতিমা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

bonna0310@gmail.com