logo

আগামী মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে লাগাতার আন্দোলনের হুমকি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | Wednesday, 26 May 2021


করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুনের শুরুতে আবাসিক হল খুলে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে শিগগির ঘোষণা না এলে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে রোববারের মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা চান তারা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “শিক্ষামন্ত্রী চলমান ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। এই ছুটি বর্ধিত করার পেছনে তিনি করোনা পরিস্থিতি ও ভ্যাক্সিনের অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করেছেন। অথচ করোনা পরিস্থিতিতে কল-কারখানা, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান; এমনকি গণপরিবহন কোনো কিছুই থেমে থাকেনি।

“এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর ভ্যাক্সিন নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরকারি নীতিনির্ধারক ও তাদের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানই দায়ী।”

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর আসিফ মাহমুদ মহামারীকালে শিক্ষার্থীদের অবস্থা তুলে ধরে আসিফ বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেশনজটে পড়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

“গত ৫ মাসে প্রায় ৩৯ জন ঢাবি শিক্ষার্থী নিজ এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন। ৮০ জন শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ ঢাবি ক্যাম্পাসেই ঢাবি ছাত্র হাফিজুর রহমানের অস্বাভাবিক ও নির্মম মৃত্যু আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা বলতে চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাই এসবের জন্য দায়ী।”

মহামারী পরিস্থিতি ‘খুব বেশি প্রতিকূল না হলে’ ২৯ জুন পর্যন্ত চলমান ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে তারপর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান দীপু মনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পরামর্শ নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

প্রযুক্তির সহায়হতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি ‘কম সময়ে’ পূরণ করার বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্ত এই টিকার ওপর খানিকটা নির্ভর করবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক একলাখ ৩০ হাজার  শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রত্যাখান করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না দিলে রোববার থেকে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে উপাচার্য বরাবর বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মঙ্গলবার মানববন্ধন করে অবিলম্বে আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেশনজট নিরসনে জুলাই থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া হবে।

অনলাইনে পরীক্ষার নানা সীমাবদ্ধতার দিক তুলে ধরে আসিফ বলেন, “আজকে অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজেই কয়েকবার ডিসকানেক্টেড হয়ে গিয়েছেন। এছাড়া গতকাল বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ঢাবি ভিসি নিজেও টানা তিনবার ডিসকানেক্টেড হন।

“সর্বোচ্চ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে তাদের ইন্টারনেটের যদি এমন বেহাল দশা হয়, সেক্ষেত্রে কোন বিবেচনায় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন? আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে এই প্রশ্ন রাখছি।”

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের মোয়াজ্জেম হোসেন, আরবি বিভাগের ইব্রাহিম নাফিস,  ইংরেজি বিভাগের হৃদয় হোসেন, দর্শন বিভাগের ইলিয়াস হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের বেশ কিছু শিক্ষার্থী সেখানে ছিলেন।