অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণী হত্যায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্বামী গ্রেপ্তার
এফই অনলাইন ডেস্ক | Friday, 4 February 2022
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্বামী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় গত রোববার সিডনির নর্থ প্যারামাট্টার পেনান্ট হিলস রোডের বাড়ি থেকে ১৯ বছর বয়সী মেডিসিনের শিক্ষার্থী আরনিমা হায়াতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
হাইড্রোক্লোরিক এসিড ভর্তি একটি বাথটাব থেকে আরনিমার মৃতদেহ উদ্ধারের পর তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্বামী মিরাজ জাফরকে (২০) গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছিল পুলিশ।
গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার ব্যাংকসটাউন পুলিশ স্টেশনে জাফর আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাফরকে ব্যাংকসটাউনের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে তিনি জামিন আবেদন করেননি। পরে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। আগামী ৫ এপ্রিল অডিও ভিজুয়াল মাধ্যমে তাকে প্যারামাট্টার স্থানীয় আদালতে হাজির হতে হবে।
টেম্প হাই স্কুলে এইচএসসিতে ৯৭ এর বেশি স্কোর করে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনিতে পড়তে যান আরনিমা। বাবা-মাকে তিনি সার্জন হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
২০০৬ সালে তার বাবা আবু হায়াত অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মায়ের সঙ্গে শৈশবে সেখানে যান আরনিমা। অস্ট্রেলিয়ায় হায়াত দম্পতি দ্বিতীয় একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জাফরকে বিয়ে করার পরিকল্পনা জানালে আরনিমার বাবা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তখন তাকে বলা হয়, “কিছু করার নেই, কারণ তারা পরস্পরকে ভালবাসে।”
জাফরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে গেল অক্টোবরে পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন আরনিমা। তখন থেকেই তিনি নর্থ প্যারাম্যাট্টার অ্যাপার্টমেন্টে জাফরের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ডেইলি মেইল লিখেছে, “ছয় মাস আগে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার আগে অধ্যবসায়ী এবং প্রাণবন্ত ‘অজি তরুণী’ আরনিমা প্রতি সপ্তাহে তার বাবা-মাকে নিয়ে সুশি এবং পাই খেতে যেতেন।
“অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আরনিমা যুক্তরাষ্ট্রে তার আত্মীয়দের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় বিমর্ষ ছিলেন।”
ক্যান্টরবুরি ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলর সাজেদা আক্তার আরনিমাকে ‘পরী’ এবং ‘পবিত্র শিশু’ হিসাবে বর্ণনা করেন।
ফেইসবুকে তিনি লেখেন, “আমাদের কমিউনিটির এক নবীন প্রাণকে আমরা হারিয়েছি, যাকে আমি আমার চোখের সামনে বড় হয়ে উঠতে দেখেছি।”
আদালতের নথি অনুযায়ী, আরনিমাকে শনি থেকে রোববারের মধ্যে কোনো এক সময়ে জাফর হত্যা করেছে বলে পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে।
সোমবার প্যারামাট্রার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জুলি বুন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর কর্মকর্তাদের জন্য আরনিমাকে উদ্ধার করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
“ঘটনাস্থলে যাওয়াটা পুলিশের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। যখন তারা সেখানে পৌঁছে রাসায়নিক দেখতে পায় তখন তারা পিছু হটে আসে এবং আরেকটি ইউনটিকে খবর দেয়।”
ডেইলি মেইল অস্ট্রেলিয়াকে আরনিমার মা-বাবা জানায়, কথিত হাইড্রোক্লোরিক এসিড ভর্তি বাথটাবে ডুবিয়ে তাদের মেয়েকে যে ভয়ঙ্কর উপায়ে হত্যা করা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না।
তারা বলেন, রীতি অনুযায়ী চিরনিদ্রায় শায়িত করার আগে ‘মেয়ের সুন্দর মুখটা’ তারা দেখতে পারবেন না। কারণ তার শরীরের কেবল মাত্র পায়ের একটি পাতাই বিকৃত হতে বাকি আছে।
ঘটনার পর গ্রিনাকার এলাকা থেকে একটি ট্রাক জব্দ করার পর ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাকটি অভিযুক্ত জাফরের বলে মনে করা হচ্ছে।