কবি-সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্তের জীবনাবসান
Saturday, 10 July 2021
কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত মারা গেছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
অকৃতদার অরুণ দাশগুপ্তের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক অরুণ দাশগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজণিত রোগে ভুগছিলেন বলে জানান পত্রিকাটির সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অরুণ দাশগুপ্ত ২০১৫ সালে কাগজপত্রে দৈনিক আজাদী থেকে অবসরে গেলেও আমৃত্যু ওই পদে আসীন ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি টেলিফোনে সম্পাদকীয় পাতার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন।
অরুণ দাশগুপ্ত দীর্ঘদিন দৈনিক আজাদীর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকসহ সর্বমহলে ‘দাদামনি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
“সে হিসেবে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের কবি ও সাহিত্যিকদের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা। তিনি নিজে একজন কবি এবং তরুণ লেখকদের নিয়মিতই লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়ে যেতেন,” বলেন রাশেদ রউফ।
অরুণ দাশগুপ্তের জন্ম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি। নিজগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণের পর কলকাতায় চলে যান।
সেখানে স্কটিশ চার্চ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শেষে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে লোকসেবক পত্রিকার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ফিরে তিনি শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৭৩ সালে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন অরুণ সেনগুপ্ত। তখন থেকেই তিনি পত্রিকার সাহিত্য পাতা সম্পাদনা করতেন।
অরুণ দাশগুপ্ত সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘসময় ধরে কবিতা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। তার রচিত দুটি গ্রন্থ হল ‘রবীন্দ্রনাথের ঋতুর গান ও অন্যান্য’ এবং ‘যুগপথিক কবি নবীন চন্দ্র সেন’।
তার কোনো কবিতার বই কখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা, সাময়িকী, সংকলনে তার অসংখ্য কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
দৈনিক আজাদীতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামও করেছেন।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন।
অরুণ দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, কবিতা, চিত্রকলা, ছোটগল্প, সঙ্গীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচরণ ছিল অরুণ দাশগুপ্তের। তিনি চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন লেখখ তৈরি করেছেন, তার জ্ঞানের আলোয় অনেককে আলোকিত করেছেন। তার মৃত্যুতে একজন প্রকৃত গুণীকে হারালাম।
সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।
তাদের শোকবার্তায় বলা হয়, “তিনি চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা প্রকৃত গুণীর পাশাপাশি একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।”
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম অপর এক বিবৃতিতে অরুণ দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।