logo

'পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন ২০.২ শতাংশ কারখানার মালিক'

ক্রিশ্চিয়ান এইড ও সিপিডি’র জরিপ


এফই অনলাইন ডেস্ক | Saturday, 9 October 2021


বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ২০ দশমিক ২ শতাংশ  পোশাক কারখানার মালিক কাজ করছেন।

শনিবার ‘জাতিসংঘের নীতিকাঠামোর আলোকে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে শ্রম ও কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ৬০৩টি পোশাক কারখানাকে এ জরিপের আওতায় আনা হয়। প্রধানত এসব কারখানার শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

মূল প্রবন্ধে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে মানবাধিকার নীতি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। সুশাসনের চর্চা হচ্ছে মাত্র ৩৮ শতাংশ কারখানায়। কর্মক্ষেত্রে ঝুকি ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ কারখানায়।

অপরদিকে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ২০ দশমিক ২ শতাংশ মালিক কাজ করছেন। শ্রমিকদের ঝুঁকি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিয়েছেন মাত্র ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ কারখানা। পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে ২৯ দশমকি ৪ শতাংশ সমস্যা নজরদারিতে রাখেন এবং ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ কারখানা মালিক সুশাসনের প্রতিকার নিয়ে কাজ করেন বলে জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে।

এ আলোচনা সভায় শ্রম ও কর্সংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চুন্নু, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. ইহসান-ই-ইলাহী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

গেস্ট অব অনার ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান ও বিকেএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি মো. হাতেম। এছাড়া শ্রমিক নেতাসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেছেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে শ্রমিকদের মানবাধিকার এবং সুশাসনে পিছিয়ে থাকলে রপ্তানি বাণিজ্যেও পিছিয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের নীতি কাঠামোর আলোকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে মানবাধিকার, ঝুঁকি ও সুশাসনের মত সূচকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ এসেছে এক আলোচনা সভায়।

সিপিডি এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. ইহসান-ই- ইলাহী বলেন, গত দশ বছরে পোশাক মালিকরা অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছেন। মালিকরা এখন নৈতিক দায়িত্ববোধের অবস্থানে অনেক সচেতন হয়েছেন।

“তবে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ হলেও তা প্রত্যাশিত পর্যায়ে হচ্ছে না। শ্রম অধিকার পূর্ণ করতে না পারলে ২০২৪ সাল থেকে ২৭ সালের মধ্যে আমরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব।“

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বর্তমানে এই শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ক্রয় আদেশে দরপতন।

“এই দরপতনের কারণে আমরা শ্রমিকদের বেতন ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির বিষয়টির নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।“

শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা ও তাদের ঝুঁকি কমানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ জন্য আমরা সরকার মালিক ও শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। অনেক উন্নতিও হয়েছে।

“সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশের কথা উন্নত বিশ্বে পৌঁছে দিতে প্রচারণা চালিয়েছি।“

ক্রেতারা পোশাকের দাম কিছুটা বাড়ালে কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হয় বলে মনে করেন তিনি।

আলোচনায় বিকেএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি মো. হাতেম বলেন, বর্তমানে দেশের পোশাক খাতে আগের সেই পরিবেশ নেই। এখন কর্ম ও ঝুঁকি পরিবেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু পোশাকের দরপতন আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।

২০১৩ সালে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের সঙ্গে চুক্তির সময় আমাদের তিনটি বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রমিকদের মানবাধিকার, ঝুঁকি কমানো এবং পোশাকের দরবৃদ্ধির কথা ছিল।

“শ্রমিকদের উন্নয়নে যা করা দরকার তার অনেকটাই আমরা করেছি। কিন্তু বায়াররা তাদের কথা রাখেনি। তারা দরপতন অব্যাহত রেখেছে।“