logo

'দূষণ রোধে প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা' - সিসা দূষণ নিরসন শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

এফই অনলাইন | Thursday, 9 June 2022


সিসা দূষণ প্রতিরোধে, আমরা আছি একসাথে - এই স্লোগানের সাথে একাত্বতা রেখে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং অংশীদারগণের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশে সিসা দূষণ নিরসন’ শীর্ষক সেমিনার। পিওর আর্থ আয়োজিত এই সেমিনারটির সার্বিক আয়জনে সহায়তায় ছিল পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ। 

বাংলাদেশের ৩ কোটি ৬০লাখ শিশু সিসা দূষণের শিকার এবং সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে আছে। প্রতি বছর সিসা দূষণের কারণে ৩৮,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় যা দেশের মোট মৃত্যুর ৩.৬ শতাংশ। 

সিসার সংস্পর্শে এসে বুদ্ধিবৃত্তিক যে ক্ষতি হয় তাতে বাংলাদেশের জিডিপি-তে ১৫.৯ বিলিয়ন ইউএস ডলারের ঘাটতি হয়। ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অবৈধ কারখানা সিসা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। 

সারাদেশে পিওর আর্থ ‘টক্সিক সাইট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে তিনশতাধিক পুরাতন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি কারখানার দূষিত স্থান খুঁজে পেয়েছে, যেখানে বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে সংখ্যাটা ১১০০- বেশি।

পিওর আর্থ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মাহফুজার রহমান বৈধ ও আনুষ্ঠানিক উপায়ে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির রিসাইক্লিং করার উপর জোর দিয়ে বলেন, “ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি সেক্টরের রিসাইক্লিং ও চার্জিং প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক করার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” 

তিনি আরও যুক্ত করেন, “এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব যদি সকল অংশীদারবৃন্দ, নীতিনির্ধারণী মহল এবং আমরা সকলে একযোগে কাজ করি।”

সেমিনারের সভাপতি, ড. মোঃ সোহরাব আলী, পরিচালক, ঢাকা ল্যাবরেটরি, পরিবেশ অধিদপ্তর, বলেন, “অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানার মালিক এবং কর্মীদের মধ্যে সিসার ভয়াবহতার বিষয়ে সচেতনতার অভাব আছে।” 

তিনি আরো বলেন, “সিসা দূষণের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংকট ব্যবস্থাপনায় আমাদের সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন।”

সেমিনারের বিশেষ অতিথি, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেল্‌থ ম্যানেজার ড. চন্দ্রসেগারার সলোমন বলেন, “সিসা এক অদৃশ্য শত্রু। মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করে তোলে এই সিসা। শুধু তা-ই না, এই দূষণ আমাদের খাদ্যচক্রেও ঢুকে পরে। শিশুরাই এর ভয়াবহতার সবচেয়ে করুণ ভুক্তভোগী।”

আইসিডিডিআর,বি-র প্রজেক্ট কোঅরডিনেটর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “মানবদেহে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যেসকল শিশু পুরাতন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানার কাছাকাছি থাকে তাদের প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সিসার গড় মাত্রা ২৯ মাইক্রোগ্রাম। এইধরনের কারখানা যেসব স্থানে ছিলো সেগুলোর মাটি পরিশোধন করে সিসার দূষণ প্রতিকার করা গেলে শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা কমানো সম্ভব।” 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের . আনোয়ার সাদাত (ডিপিএম, পিএমআর) জানান, “রক্তে সিসার মাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনায় (ডিএইচআইএস ২) রক্তে সিসার মাত্রার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন যাতে সিসা বিষক্রিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল অংশীদারদের মধ্যে অন্তঃসম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি পরিশোধনের মাধ্যমে সিসা দূষণ প্রতিকারের প্রকল্পের ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। মির্জাপুরে ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২টি অবৈধ সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা সচল ছিল। কারখানার ব্যাটারি ও প্লাস্টিক বর্জ্য, কংক্রিটের প্যাড ও উচ্চমাত্রায় সিসা দূষিত মাটি এলাকাবাসীদের সিসা দূষণের ঝুঁকির মুখে রেখেছিল।” 

সেমিনারের বক্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশেষত শিল্প ও ই-বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। ২ ঘণ্টার এই সেমিনারে আরও ছিলো প্রশ্ন-উত্তর পর্ব, ভিডিও ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন

সামনের দিনগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তর সিসা দূষণ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে, সংকট মোকাবিলায় একসাথে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে।