লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল ডিবেইবাহর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে অজ্ঞাত হামলাকারীরা, তবে তিনি অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে হামলাটি হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
তিনি জানান, ডিবেইবাহ বাড়িতে ফেরার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাটিকে পরিষ্কার প্রাণনাশের চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
লিবিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র উপদলীয় দ্বন্দ্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের চেষ্টার এ অভিযোগ এল। তবে ঘটনার তাৎক্ষণিক বা এরপরের কোনো ছবি বা ফুটেজ দেখেনি রয়টার্স। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গেও কথা বলতে পারেনি তারা।
ডিবেইবাহকে পদ থেকে সরানোর জন্য বৃহস্পতিবার লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টে একটি ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ডিবেইবাহ এই ভোটাভুটিকে অগ্রাহ্য করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। এরমধ্যে ডিবেইবাহের প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদ্যমান সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীগুলো সম্প্রতি রাজধানী ত্রিপোলিতে আরও যোদ্ধা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। এতে রাজনৈতিক সংকট থেকে লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা বাড়ছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে নেটো সামরিক জোটের মদতে হওয়া অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে শান্তি বা স্থিতিশীলতা তেমন একটা দেখা যায়নি। তারমধ্যেই ২০১৪ সালে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক যুদ্ধরত দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
মার্চে ডিবেইবাহকে জাতিসংঘ সমর্থিত জাতীয় ঐক্য সরকারের (জিএনইউ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশটির বিভক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করা ও শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডিসেম্বরে হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি তদারকি করা।
কিন্তু এই নির্বাচনে ডিবেইবাহ নিজেই প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় জটিলতা শুরু হয়। এর আগে তিনি প্রার্থী হবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এতে বিধিবিধান নিয়ে বিবাদে নির্বাচনের প্রস্তুতি ভেস্তে যায়।
এরপর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র উপদলগুলো তাদের অবস্থান সংহত করার দিকে নজর দেয়।
