ছয় দিন নিখোঁজ থাকা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চাশোর্ধ এক শিক্ষককে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, শিক্ষালয় বন্ধ থাকার হতাশা থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
হারুনুর রশিদ নামের এ শিক্ষককে গত শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে কাউন্সেলিংয়ের পর তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরাদুল ইসলাম।
গেল ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর মাদারটেকের শাপলা কানন আবাসিক এলাকা থেকে বের হয়েছিলেন হারুনুর। এরপর আর তার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবারের সদস্যরা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ওসি মোরাদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ থাকায় হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বাসা থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান এই শিক্ষক।
“অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত ১ ফেব্রুয়ারি সবুজবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।"
পরিবারের সদস্যরা থানায় জানানোর পর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ শিক্ষক হারুন ঘটনার দিন একটি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।
সবুজবাগ থানার ওসি বলেন, "তার পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি মানুষ হিসেবে খুব ভালো এবং ধার্মিক। তার এক ছেলে চিকিৎসক, অন্য ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
“পরিবারের সদস্যরা সবাই ব্যস্ত থাকেন। তার ওপরে করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ। ফলে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি পরিবার ও পেশাগত জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।"
শিক্ষক হারুনুর ব্যক্তিগত কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না বলে জানান তিনি।
৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সায়েদাবাদে একটি হোটেলে ওই শিক্ষক আত্মগোপনে ছিলেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোরাদ বলেন, "আত্মগোপনে থাকা কয়েকদিন তিনি হোটেলেই ছিলেন। তার পরিবার কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেননি। মোবাইল ব্যবহার না করার কারণে তাকে খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লেগেছে।"
শিক্ষককে উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, "হারুনের পকেটে থাকা কাগজে তার অফিসের একটি ইমেইল আইডি ও ইমেইলের পাসওয়ার্ড হিসেবে বাসার মোবাইল নম্বর ছিল। শনিবার সারাদিন ওই শিক্ষক একজন পান দোকানদারের সঙ্গে বসেছিলেন।”
“ওই দোকানি থানায় এসব তথ্য দিলে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে হারুনকে উদ্ধারে সক্ষম হয় পুলিশ।"
হারুনুর রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৯০ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।
তিনি সেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে পড়ান।
