যৌতুক না পেয়ে লক্ষ্মীপুরে এক নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধরের পর তার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও ননদের বিরুদ্ধে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকালে ওই নারীর ননদকে আটক করেন তারা।
সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মধ্য চররমনী গ্রাম থেকে সোমবার বিকালে ওই গৃহবধূকে উদ্ধারের পর এক আত্মীয়ের বাড়ি পাঠানো হয় বলে ইউপি সদস্য মনির হোসেন জানান।
২০ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মনির বলেন, ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের পূর্ব দিশাপুর গ্রামের ওই নারীর পারিবারিকভাবে তিন বছর আগে বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে পেশায় জেলে স্বামী বিয়ের পর থেকেই তাকে মারধর করে আসছিল।
রোববার সন্ধ্যায় স্বামী ও ননদের সঙ্গে ওই নারীর আবার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ননদ তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হাত-পা বেঁধে রাতভর মারধর শেষে স্বামী ও ননদ মিলে ওই নারীর মাথার সামনের চুল কেটে দেয়। পরে হাত-পা বেঁধে রেখেই স্বামী পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা এসে আমাকে খবর দিলে ওই নারীকে উদ্ধার করি। বলেন ইউপি সদস্য।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার স্বামী এর আগে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। সম্প্রতি আরও ৩ লাখ টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় স্বামী তার হাত-পা বেঁধে মারধর করে। এক পর্যায়ে মাথার সামনের চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেন তারা। পরে তার দেওয়া মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তার ননদকে আটক করা হয়। দুইজনই থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।