বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশে আগামী তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিরাময় ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেছেন, এখনও মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু ওমিক্রনের সংক্রমণ শক্তি বেশি হওয়ায় আরও বেশি সংখ্যক লোক আক্রান্ত হবে বলে তিনি ধারণা করছেন। খবর বিবিসি বাংলার।
সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, ওমিক্রন সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি কিছু বিধিনিষেধ আসবে।
তবে মঙ্গলবার তিনি সচিবালয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ''১৫ দিন আসলে অনেক বেশি। এই সময়ের মধ্যে রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আমরা আজ বলেছি, সাত দিনের মধ্যে বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে হবে।''
রোগতত্ত্ব, রোগ নিরাময় ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনবলছেন, ''বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখছি যে বাংলাদেশ বা আমাদের সাউথ এশিয়ান অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অমিক্রন সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যেহেতু আমাদের দেশে ট্রাভেল আছে অনেক (অনেক মানুষ যাতায়াত করেন), তাই বন্দরে স্ত্রিনিং করে এটা আটকানো কঠিন।''
ভাইরাসটির পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে মি. হোসেন জানান, বাংলাদেশে এর মধ্যেই ১০টি সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় এটা বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী তথ্য উপাত্ত এবং ওমিক্রণ ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ক্ষমতা, দুটি মিলিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, আগামী তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হয়তো অমিক্রন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আলমগীর হোসেন বলছেন, ''এখন আমরা পাচ্ছি একটা দুইটা করে। কিন্তু আলটিমেটলি হয়তো আমরা আগামী তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে দেখবো যে, ব্যাপক করোনা পেশেন্ট ওমিক্রনে আক্রান্ত।''
অমিক্রন বাড়লেও হাসপাতালে ভর্তির হার হবে কম
তবে ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়লেও তাদের সবাইকে হয়তো হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না বলে এই বিজ্ঞানী ধারণা করছেন।
''গ্লোবাল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা আশা করছি, ওমিক্রনে (আক্রান্ত হলেও) হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কম হবে।'' তিনি বলছেন।
এখন পর্যন্ত ডেলটা ধরনের করোনা সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন সংক্রমণের হার পর্যালোচনা করে তিনি জানান, অন্যান্য দেশে ওমিক্রনের মৃদু সংক্রমণ হলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর হার কম। কিন্তু একই সময়ে যদি অনেক বেশি রোগী হয়, সেটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি করবে।
আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলছেন, ''আমরা এরকম মৃদু পেশেন্টের ক্ষেত্রে হোম আইসোলেশনের কথা বলি। কিন্তু বাংলাদেশে সকল মানুষের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই যে, বাসায় আইসোলেশনে থাকবে।''
তিনি বলছেন, ''আরেকটি কথা হলো, ভাইরাস যতো মৃদু হোক না কেন, যাদের বয়স বেশি, যাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ আছে, তাদের জন্য কিন্তু যেকোনো মৃদু ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে। এজন্য বয়োজ্যেষ্ঠ জনগণ এবং যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, ওমিক্রন যেন তাদের আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য তাদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যতোই মৃদু হোক না কেন, এটা তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে। '' বলছেন মি. আলমগীর।
এজন্য সতর্ক হওয়া, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ওপর জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।