ছোট ভাই আর বড় ভাইয়ের মত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থাকবে বলে মন্ত্রব্য করেছেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শনিবার রাজশাহীতে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চম সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই আওয়াজ এখনও আমাদের কানে বাজে। সেই আওয়াজে আমরা ভারতবাসী সাড়া দিয়েছিলাম।
“মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরাসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশের মানুষকে আশ্রয় দেয় ভারত। দুই দেশের সম্পর্ক এখনও অটুট আছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ছোট ভাই আর বড় ভাইয়ের মতই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থাকবে।”
রামপ্রসাদ বলেন, “পাঁচ বছর ধরে দুই দেশের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সম্পর্ক আরও যেন গভীর হয়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের মিলনমেলা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।”
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার রাতে রাজশাহী আসেন ভারতের মন্ত্রী, অভিনেতা, কবি, শিল্পী, সাংবাদিকসহ ৩৬ জনের প্রতিনিধি দল। শনিবার দুপুরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের গ্রিন প্লাজায় তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে উপহারের একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।
শনিবার ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে তারা শ্রদ্ধা জানান জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যদি আরও সুদৃঢ় হয়, তাহলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দুর্বল হবে। তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত আমাদের পাশে আছে। আমরাও তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করি।”
‘এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিক্রম দোরাইস্বামী।
তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে সংস্কৃতির বিনিময় আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
সংবর্ধনার পর বিকেলে রাজশাহী কলেজ মাঠে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় দুই দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোববার বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম, পুঠিয়া রাজবাড়ি ও নাটোরে উত্তরা গণভবন পরিদর্শন করবে ভারতীয় প্রতিনিধি দল।
