ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকি দিয়ে নোয়াখালীর এক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভিডিও ঘুরছে সোশাল মিডিয়ায়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দেলু পূর্ব বরাহিমপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় এক সভায় এই হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নৌকার প্রার্থী দেলুর এই কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ণ হয়েছে মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহিন।
জেলার ডিসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানও জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে।
চতুর্থ ধাপে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নোয়াখালী সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ দাদপুরে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেলুকে মনোনীত করেছে। তবে ৭ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।
এরই মধ্যে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মধ্যেই দেলুর এক সভার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে দেলুকে বলতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের টিকেট নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। আপনাদের কাছে ভোট দাবি করতেছি। আপনারা আগামী ২৬ তারিখে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
এরপরই তিনি বলেন, কোন কেন্দ্র উনি নিজের হাতে নিয়ে যাবে? এগুলো খামাকা কথা। কেন্দ্র দখল করলে আমরা করব। জোর করে ভোট নিলে আমরা নেব। কারণ আমরা সরকারের প্রতিনিধি।
দেলু সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।
কোন কেন্দ্র কে হাতে নিতে চেয়েছে, তা বলেননি তিনি। তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান শিপনকে ইঙ্গিত করেছেন, তা অনেকটা স্পষ্ট।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউনিয়নের কামারবাড়ির সামনে দেলু তার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
সেখানে তার কর্মী ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে দেব। নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করবে? নৌকার কর্মীদেরকে ধমকাবে? তাদের তালিকা আমরা কড়ায়-গণ্ডায় গুনব।
দুজনের বক্তব্যের দুটি ভিডিও রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায়।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে এক সভায় দেলুর বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
তাতে দেলুকে বলতে শোনা যাচ্ছে, প্রশাসন দেলোয়ারের পক্ষে থাকবে। প্রশাসন নৌকার পক্ষে থাকবে। ডিবি, এনএসআই, ডিএসবি, পুলিশ, বিডিআর, র্যাব সব বলা হয়েছে। কেউ চিন্তা করবেন না আপনারা।
ভিডিওর বক্তব্যের বিষয়ে দেলুকে প্রশ্ন করলে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমি অন্য সূত্র ধরে এ কথা বলেছি। ফেইসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।
দেলু বলেন, এটি আমার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান শিপনের কাজ।
শিপনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শিপন অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বলেন, তিনি (দেলু) নিজ মুখে কেন্দ্র দখলের কথা বলেছেন, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি কেন উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করব?
শুধু এই ভিডিও নয়, নৌকার প্রার্থী ইতিমধ্যে তার সব নির্বাচনী পথসভা, শোডাউন, উঠোন বৈঠকে কেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার এবং ভোটের আগে আমার কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন।
দেলুর বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব বলেন, দেলোয়ার হোসেন দেলু আমাদের দলের লোক হয়ে, দলীয় পদে থেকে এমন বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেলুর ভিডিও প্রচারিত হওয়ার পর ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ভোটাররা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে লক্ষ্যে প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলার ডিসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, কোন প্রার্থী কোথায় কী বক্তব্য দিলেন, তাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেব না।
দেলুর ব্ক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, তার (দেলু) এ বক্তব্যে আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আচরণবিধি প্রতিপালনে বুধবার থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন বলেও ভোটারদের আশ্বস্ত করেন ডিসি।