ধরুন, আপনারা দুই বন্ধু কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বের হয়েছেন। অথচ বের হওয়ার পর আপনি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও আপনার বন্ধু সেটি পারেননি। এর কারণ হিসেবে আপনি দেখলেন ছাত্রাবস্থায় থাকতেই আপনি যেখানে ভবিষ্যতের জন্য কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে সে অনুযায়ী এগিয়েছেন, আপনার বন্ধু তখন শুধ বইয়ের পাতার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছি্লেন।
বস্তুত, সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করাকে অ্যাক্টিভ বলা হলেও প্রোঅ্যাক্টিভ বলতে বোঝায় সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করা যা একজন ব্যক্তিকে জীবনে সফল হতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
আমাদেরকে জীবনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। আর এসব বাধা উত্তরণে পূর্বপ্রস্তুতি বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কারণ তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় সবকিছু মোকাবেলা করা সম্ভব নাও হতে পারে। বিশেষ করে সেটি যদি ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের কোনো বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হয় তাহলে বিষয়টি তখন আর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ আমরা সবাই জানি, ভবিষ্যতে চাকরি বাজার থেকে শুরু করে সবকিছু বর্তমান অপেক্ষা অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে। আর এক্ষেত্রে অনেকের ভিড়ে নিজেকে দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে প্রয়োজন আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাকে আমরা প্রোঅ্যাক্টিভ বলে থাকি।
চলুন, ধাপে ধাপে জেনে নেয়া যাক প্রোঅ্যাক্টিভ হবার কিছু সহজ কৌশল।
আত্নবিশ্বাস বাড়ান
প্রোঅ্যাক্টিভ হওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়টির উপর সবার আগে জোর দিতে হবে, সেটি হলো নিজের আত্নবিশ্বাসকে দৃঢ় করা। কারণ যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেই আত্নবিশ্বাস রেখে কাজ করলে সফলতা অর্জনের পথ অনেক সহজ হয়। পাশাপাশি সমালোচনা সহ্য করার মন-মানসিকতাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কঠোর পরিশ্রমী হোন
জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। অনেক প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা না থাকার দরুন অনেকেই জীবনে সফল হতে পারেন না। আর একজন প্রোঅ্যাক্টিভ মানুষের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি জীবনে সফল হতে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা নিজের মধ্যে রাখবেন। ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার পর শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নিজ লক্ষ্যে অটল থেকে কাজ করার মধ্যেই একজন প্রোঅ্যাক্টিভ ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।
ধৈর্যধারণ করুন
একজন প্রোঅ্যাক্টিভ ব্যক্তির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তারা ভবিষ্যতের কথা ভাববে ঠিকই, কিন্তু সেটি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ধৈর্যধারণের ক্ষমতাও তাদের মাঝে থাকবে। কারণ কোনো একটি কাজ একবার করেই সবসময় সফল হওয়া যায় না। অথচ এই সময় অনেকেই হতাশ হয়ে পুনরায় চেষ্টা করা বন্ধ করে দেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গবেষণাধর্মী হোন
গবেষণা করার মানসিকতা তৈরি করাটাও একজন ব্যক্তির প্রোঅ্যাক্টিভ হওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ভবিষ্যত প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তাই আগামীতে আপনার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কীভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার এবং আপনার সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী, সেসব বিষয় আপনাকে গবেষণা করেই বের করতে হবে। যেমন- ছাত্রাবস্থায়ই আপনি আপনার দক্ষতা বাড়াতে কিছু কোর্স করে রাখতে পারেন। পাশাপাশি আইটিতে ভালো দক্ষতা আপনাকে আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনেক সাহায্য করবে।
পরামর্শ নিন
সর্বোপরি লক্ষ্য অর্জন প্রসঙ্গে আপনার আগে যারা উক্ত ধাপগুলো সফলতার সাথে অতিক্রম করেছেন, তাদের থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। কারণ সঠিক ব্যক্তি থেকে সঠিক পরামর্শ আপনার জীবনকে আরো সুন্দর এবং সাবলীল করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, যার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি ঐ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রটিতে দক্ষ কি না। কেননা পর্যাপ্ত পরিমাণ দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা না থাকলে তিনি আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হতে পারেন, যা আবার আপনার জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে কথা হয় জব মার্কেট বিডি ডটকম নামক চট্টগ্রামের একটি বিজনেস কনসালটেন্সি ফার্মের সিইও আবু হুরাইরা ভূট্টোর সঙ্গে। তিনি বলেন, “একজন অ্যাক্টিভ ব্যক্তির চেয়ে একজন প্রোঅ্যাক্টিভ ব্যক্তি জীবনে অনেক বেশি উন্নতি সাধন করতে পারে। কারণ তারা তাদের ভবিষ্যত জীবনকে সুন্দর করতে আগে থেকেই একটি লক্ষ্য ঠিক করে সেটি বাস্তবায়নের জন্য জন্য সর্বদা চেষ্টা করে। তাই জীবনকে আরো সুন্দর করতে অবশ্যই এই গুণটি অর্জন করতে হবে।”
মূলত ছাত্রজীবন থেকেই একজন মানুষকে প্রোঅ্যাক্টিভ হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বর্তমান প্রতিযোগিতামুলক বিশ্বে যেখানে প্রতিনিয়ত সবকিছু পরিবর্তিত হচ্ছে সেখানে নিজেকে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে প্রোঅ্যাক্টিভ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তানজিম হাসান পাটোয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।
tanjimhasan001@gmail.com
