২৪ ঘণ্টায় কোটি ডোজ প্রয়োগে গণটিকাদান শুরু


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: February 26, 2022 10:40:24 | Updated: February 26, 2022 13:10:28


ছবি: বাসস

সারাদেশে এক দিনে এক কোটি ডোজ কোভিড টিকাদানের কাজ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে শুরুর আগেই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ এই কর্মসূচিতে দেওয়া হচ্ছে টিকার প্রথম ডোজ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ। কেউ কেউ টিকা কার্ডও নিয়ে এসেছেন।

স্থানীয় একটি কাপড় তৈরির কারখানার শ্রমিক মো. মজিবুর রহমানের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়ি যেতে না পারায় জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র কোনোটাই আনতে পারেননি। ফলে টিকার জন্য নিবন্ধনও করতে পারেননি।

মজিবুর বলেন, শনিবারের টিকাদান কর্মসূচির কথা শুনে বাড়ি থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ আনিয়েছেন তিনি।

শুনতেছি টিকা আর দেওয়া হবে না। এজন্য নিয়ে নিচ্ছি।

এই কেন্দ্রে লাইনে ছিলেন কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন। তিনি শুক্রবার নিবন্ধন করে টিকা কার্ড নিয়ে এলেও তার এসএমএস আসেনি। ফলে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

মামুন বলেন, দেখি যদি টিকা দিয়ে দেয়, তাহলে তো ভালো। নাইলে অন্য সময় যদি দেয় তখন নিমু।

রাজধানীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুর বায়তুস সালাম জামে মসজিদ কেন্দ্রে টিকা দিতে এসেছেন স্থানীয় গৃহিণী পুষ্পিতা আক্তার লাবণ্য।

তিনি বলেন, টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারেন এমন কোনো প্রমাণপত্র নেই তার কাছে। এ কারণে এতদিন সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করাতে পারেনি।

ভোটার আইডি নেই, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা নেই। তাই এতদিন টিকা নিতে পারিনি। এখন জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ড লাগবে না, তাই টিকা নিতে এসেছি।

এই কেন্দ্রে আসা মেহেদী হাসান হৃদয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন আমার জন্মনিবন্ধনে ভুল থাকায় নিবন্ধন করাতে পারিনি, এতদিন টিকাও নিতে পারিনি। এজন্য আজ টিকা নিতে এসেছি।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা শামসুল হক শনিবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু এখনও এসএমএস আসেনি তারাও টিকা নিতে পারবেন।

আমরা গণটিকা কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ দেওয়ার কাজ আজই শেষ করতে চাচ্ছি। এ কারণে ডকুমেন্টস থাকুক বা না থাকুক, যেই আসুক আমরা তাকে টিকা দিয়ে দেব। এসএমএস না আসলেও টিকা পাবে। পরে কেন্দ্র থেকে এগুলো সমন্বয় করে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ অসুস্থ কিংবা খুব জরুরি কারণে প্রথম ডোজের টিকা নিতে পারছেন না, এমন ব্যক্তিরাও প্রথম ডোজ পরে নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে বাড়ির পাশে এভাবে আর টিকা পাবেন না। আমাদের নির্ধারিত হাসপাতালের কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে হবে।

বাংলাদেশে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়। দুই মাস পর ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম। আর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল এক দিনে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একদিনে ১ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওইদিন জানানো হয় ২৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে না।

ওই ঘোষণার পর সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্রগুলোয় ভিড় বাড়তে থাকে। বুধবার সাভারে করোনাভাইরাসের টিকা কেন্দ্রে প্রথম ডোজ টিকা প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় হয় যা সামলাতে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮ কোটি ১৯ লাখ এবং বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৩৫ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ।

Share if you like