মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের জন্য বন্ধ হচ্ছে জাতীয় এ মাছ শিকার। রোববার মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণে বিরতির পাশাপাশি কেনাবেচাও থাকবে বন্ধ।
এজন্য দেশের ৩৮টি জেলায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
এ বছর এসময়কাল নির্ধারণ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার, যাতে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়।
আগে প্রজনন মৌসুমে ১৫ দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলেও গত চার বছর ধরে এই সময় সাত দিন বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইলিশ মাছকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মৎস্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন সময় বিবেচনা করে এ বছর আহরণ নিষিদ্ধের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইলিশ ধরা বন্ধের সময় সাগরে পাশ্ববর্তী দেশের জেলেরা যাতে অবৈধ মৎস্য শিকার করতে না পারে সেজন্য কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এসময় জেলেদের সহায়তায় প্রায় পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার জেলে পরিবারের জন্য ১১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সভার পরে জানানো হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে এ বছর ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপুলিশ নদীতে ভাসমান ফাঁড়ি পরিচালনা করবে এবং সার্বক্ষণিক একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখবে।
বিমান বাহিনী আকাশপথে নজরদারি গত বছরের চেয়ে বাড়াবে এবং রাতের বেলা টহল জোরদার করবে। একই সঙ্গে নৌবাহিনী নয়টি জাহাজের মাধ্যমে এবং কোস্টগার্ড ভারতীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করবে, যাতে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরতে না পারে।
পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন মৎস্য বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বরফকল বন্ধ রাখা, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা ও প্রচারনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযান বাস্তবায়নকালে ২০টি জেলা- ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ও বাগেরহাট জেলার নদ-নদী, মোহনা ও সাগরে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
আর ১৮টি জেলা- নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলার নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের আইন অনুযায়ী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করা, কেনাবেচা ও বিনিময় নিষিদ্ধ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
এ নির্দেশনা না মানলে কমপক্ষে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।