ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাবে মস্কোর তেল-গ্যাসের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপের সম্ভাবনার খবরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১৩৯ ডলারে উঠ যায়। অবশ্য পরে তা ১৩০ ডলারে নেমে আসে।
ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিশ্বের জ্বালানি বাজার চড়া। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তারা এরইমধ্যে টের পেতে শুরু করেছেন, দৈনন্দিন জ্বালানি খরচের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের পেছনেও খরচ বেড়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ৪ শতাংশ পড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টিন ব্লিনকেন জানান, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং তাদের মিত্ররা রাশিয়ার তেল সরবরাহের ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানান, রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য একটি আইন করার বিষয়টি ভেবে দেখছেন এবং এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইউক্রেইনকে সহায়তার জন্য এক হাজার কোটি ডলার তহবিল অনুমোদন করতে পারে।
এক চিঠিতে পেলোসি জানান, পরিষদ বর্তমানে কঠিন আইন করার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে যাতে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে রাশিয়াকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা যায়।
ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলা নিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হোয়াইট হাউজ ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের ওপর চাপ আসার প্রেক্ষাপটে এসব মন্তব্য এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সংবাদ মাধ্যমটি লিখেছে, রাশিয়ার তেলের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে তা হবে ইউক্রেইনে হামলার একটি বড় জবাব এবং সম্ভবত বিশ্ব অর্থনীতিতেও একটি বড় প্রভাব ফেলবে।
চলমান সংকট ঘিরে বিশ্ব বাজারে তেল সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ভোক্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাইকারি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব টের পাচ্ছেন যেহেতু তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরও বেড়ে গেছে।
রোববার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে গত সপ্তাহজুড়ে পেট্রোলের দাম ১১ শতাংশ বেড়ে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
আরএসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি লিটারে ১ পাউন্ড ৫০ পেনি বেড়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে এবং যুক্তরাজ্যে বসতবাড়িতে বার্ষিত গ্যাসের বিল তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোববার জ্বালানি তেল উৎপাদন ও বিক্রির বহুজাতিক কোম্পানি শেল রাশিয়ার ক্রুড তেল কেনার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, কম দামে জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিলো। তারা শুক্রবার রাশিয়া থেকে এক কার্গো ভর্তি জ্বালানি কিনেছে এবং তাদের কোন বিকল্প ছিলো না।
এদিকে রাশিয়া থেকে শেল জ্বালানি তেল কেনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্র কুলেবা। টুইটারে তিনি প্রশ্ন রাখেন, রাশিয়ার তেলে ইউক্রেনের লোকদের রক্তের গন্ধ পান না আপনারা?
ইউক্রেইনে হামলার জেরে বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ছেদের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই সপ্তাহান্তে ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক জানিয়েছে তারা তাদের রাশিয়ার প্ল্যাটফর্মে লাইভস্ট্রিমিং এবং নতুন কনটেন্ট প্রদর্শন বন্ধ করেছে।
নেটফ্লিক্সও সেদেশে তাদের সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া ভিসা, মাস্টারকার্ড ও পিডব্লিউসি রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছেদের কথা জানিয়েছে।