ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ ঘন্টা পর শনিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হাসেম ফুডসের কারখানায় অভিযানের সমাপ্তি টেনে ফায়ার সার্ভিস বলছে, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে’। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শুক্রবারের পর পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে নতুন করে আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে অভিযান শেষে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার বিকালে ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে জানিয়ে বলেন, “ভবনটির পাঁচ তলার ছাদ জায়গায় জায়গায় ধসে পড়েছে। আমাদের দিক থেকে আমরা বলতে পারি এটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।“
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের বিশাল আয়তনের ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার পর বিকালে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার দুই কর্মকর্তার কাছে ঘটনাস্থলের ভার হস্তান্তর করেন।
আগুন নেভাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগার কারণ সম্পর্কে দেবাশীষ বর্ধন বলেন, “এখানে অনেক ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হত। এ কারণে এখানে দাহ্যবস্তুও ছিল হরেক রকমের।
“খাবারে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, রেজিন, প্লাস্টিকের প্যাকেট, কাগজের কার্টুন, কাগজের রোলসহ বিভিন্ন রকমের দাহ্য বস্তু দিয়ে ঠাসা ছিল পুরো ভবনটি। আর ভেতরে পার্টিশন দিয়ে খোপ খোপ করার কারণে পানি সব জায়গায় ঠিকমত পৌঁছানো যায়নি। আবার অনেক খোপে তালা দেওয়া ছিল। এসব কারণে আগুন নেভাতে দেরি হয়েছে।“
রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস কারখানায় বৃহস্পতিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী প্রাণ হারান।
অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটিতে ত্রুটিপূর্ণ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথে তালা লাগানোর বিষয়টি প্রকাশ পায়। কারখানাটিতে শিশু শ্রমিক ব্যবহারের বিষয়টিও হয় প্রকাশ্য।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রূপগঞ্জের ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন মজুমদার।
পরে সজীব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেমসহ মামলার আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
