হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারে ডেসটিনি গ্রুপের রফিকুল আমীন


FE Team | Published: July 03, 2021 20:58:53 | Updated: July 04, 2021 12:13:13


ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন, ফাইল ছবি/বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কারাবন্দি অবস্থায় ভার্চুয়াল মিটিংকাণ্ডের পর ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চিকিৎসক তাকে ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। বিকালে হাসপাতাল থেকে কারাগারে আনা হয়েছে।

ডায়াবেটিসজনিত অসুস্থতার কারণে গত ১১ এপ্রিল রফিকুল আমীনকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের 'প্রিজন সেলে' নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে থেকেই তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে।

হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকেই তার জুম মিটিং করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ১৭ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

ডিআইজি তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে, যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা যাচাই-বাছাই করছে কমিটি।

কারা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গত মাসের শেষের দিকে সর্বশেষ জুম মিটিংয়ে অংশ নেন রফিকুল আমীন। রাত ১টার দিকে ওই ভার্চুয়াল বৈঠক হয় বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার বৈঠক করেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

হাসপাতাল থেকে করা একটি জুম মিটিংয়ে রফিকুল আমীন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক দিক নির্দেশনা দেন এবং দেশের বাইরে থেকে টাকা আনার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। ডেসটিনির কয়েকজন কর্মকর্তাও সেখানে যুক্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছেন কারা কর্মকর্তারা।

কেবল হাসপাতালে না, কারাগারের ভেতরে থেকেও রফিকুল এভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বলে যে কথা শোনা যাচ্ছে, তাও তদন্ত করে দেখছে কারা কর্তৃপক্ষের কমিটি।

কোনো কারাবন্দির অনুমতি ছাড়া বাইরে কারো সাথে কথা বলার সুযোগ নেই। তাহলে কীভাবে রফিকুল আমীন মোবাইল পেলেন, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় চার প্রধান কারারক্ষী ইউনুস আলী মোল্লা, মীর বদিউজ্জামান, আব্দুস সালাম এবং আনোয়ার হোসেনকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাত সহ-প্রধান কারারক্ষী জসিম উদ্দিন, সাইদুল হক খান, বিল্লাল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, বরকত উল্লাহ, এনামুল হক এবং সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলা হয়েছে কারারক্ষী মোজাম্মেল হক, জাহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন, কামরুল ইসলাম, শাকিল মিয়া এবং নবীন কারারক্ষী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধেও।

আগে হাসপাতালে থাকা বন্দিদের দেখভালের জন্য প্রধান কারারক্ষীদের দায়িত্ব দেওয়া হত। এখন এসব বন্দিদের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেলার থাকবেন বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধয়াপক হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ওই ঘটনা খতিয়ে দেখতে তারাও তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।

সকালে কমিটি গঠনের পর দুপুরে রফিকুল আমীনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি যদিও আমাদের নয়। তারপরও কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি দিয়ে ২০০০ সালে ডেসটিনি গ্রুপের যাত্রা শুরু। এক দশকের মধ্যে বিমান পরিবহন, আবাসন, কোল্ডস্টোরেজ, জুট মিল, মিডিয়া, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানি খুলে বসে এই গ্রুপ।

কিন্তু মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের নামে ২০ লাখের বেশি মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালে মামলা হলে ওই বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন রফিকুল আমীনসহ কোম্পানির অধিকাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা, বাকিরা লাপাত্তা হয়ে যান।

দুদকের নোটিসে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দেওয়ায় গতবছর রফিকুল আমীনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

Share if you like