হাজার গুণে ভরা মধু!


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: October 15, 2021 09:03:31 | Updated: October 15, 2021 17:41:03


হাজার গুণে ভরা মধু!

মধুর গুণ কেবল মিষ্টতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে রোগ নিরাময় পর্যন্ত, মধুর গুণের বিস্তৃতি কল্পনাতীত। মধু প্রায় ৪৫ টির মতো খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারী। শুধু তাই নয়, রোগ প্রতিরোধেও মধুর জুড়ি মেলা ভার। প্রায় ৯৯ টি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মধু দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। মধুতে উপস্থিত ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

মধুতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা দেহে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে এবং রক্তশূন্যতা অনেকাংশে রোধ করে। শারীরিক দূর্বলতা দূর করতেও মধুর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।

মধু হজম শক্তি বাড়ায় ও এসিডিটির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগলে বিশেষত সর্দি-কাশিতে মধু খাওয়ালে খুব উপকার পাওয়া যায়। তুলসী পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। প্রাচীনকাল থেকেই ঠান্ডাজনিত অসুখের প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে মধু-তুলসীর ব্যবহার হয়ে আসছে।

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মধু খেলে রাতে ঘুম ভালো হয় এবং অনিদ্রার সমস্যা কেটে যায়। মধুতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাড়কে মজবুত রাখে। মধু দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও দাঁতের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় মধুর অপরিসীম অবদান রয়েছে।

মধুতে উপস্থিত প্রাকৃতিক চিনি দেহের পেশীসমূহকে শক্তি জোগায়। ফলে মানুষ অধিক কর্মক্ষম হয়ে উঠে। মধু শরীরে তাপও উৎপাদন করে থাকে। তাই শীতের দিনে মধু খেলে তা শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকে মধু ব্যবহার করলে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ত্বককে মসৃণ করে তোলে। শুধু ত্বকের যত্নেই নয়, বরং চুলের যত্নেও মধু বেশ উপকারী। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুলের গোড়াকে আরো মজবুত করে মধু।

হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মধু বেশ উপশমদায়ক। যে সকল পুরুষ যৌন দুর্বলতায় ভুগে থাকেন তারা নিয়মিত মধু খেলে বেশ উপকার পেয়ে থাকেন।

নিয়মিত মধু খেলে রক্তের এলডিএল (LDL-Low Density Lipoprotein), যাকে আমরা ব্যাড কোলেস্টেরল বলে থাকি, তার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগের আশংকা খানিকটা কমে যায়। এক্ষেত্রে মৌরি গুঁড়োর সাথেও মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতেও এটি সাহায্য করে।

ডায়রিয়া হলে মধু খেলে তা শরীরের পানিশূন্যতার হার কমায়। আমাশয় হলে বরই বা আম গাছের বাকল চূর্ণ বা কচি বেলের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে এই রোগ নিরাময় হয়। খাবারের প্রতি অরুচি বা বমি বমি ভাব দূর হয়।

নিয়মিত মধু খেলে গলার স্বর ভালো থাকে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে নিয়মিত মধু খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে মধুর সাথে গোটা রসুন মিশিয়ে খেলে অধিক উপকার পাওয়া যায়।

শতগুণে গুণান্বিত মধুর গুণের জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত একটুখানি মধু শরীরের বিভিন্ন জটিলতা অনেকাংশেই কমাতে পারে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like