হাওরাঞ্চলের সৌন্দর্য প্রতি ঋতুতে সমৃদ্ধ, তবে বর্ষায় যেন তার ভরা যৌবন। এ সময় যে-ই হাওরে যাবে, সে-ই তার প্রেমে পড়বে। বিশেষত সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশবিশেষ হাওরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের মানুষের রয়েছে স্বতন্ত্র জীবনধারা। তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন।
হাওরের মানুষের বড় পরিচয়, তারা বংশানুক্রমেই কৃষিজীবী। যে কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, সে কৃষির আসল কারিগর তাঁরাই। সারা বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে কথাবার্তা হচ্ছে, এর নিশ্চয়তা কিন্তু এই কৃষকরাই দিতে পারেন। বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ; ধান উৎপাদনে তৃতীয়। আর তাতে হাওর অঞ্চলের মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। নেত্রকোণা জেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে নেত্রকোণা জেলার দানাদার খাদ্য শস্যের চাহিদা ছিল ৪ লক্ষ ২ হাজার ৪ শত ৩৫ মেট্রিক টন। আর উৎপাদিত হয়েছে ৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬ শত মেট্রিক টন। এ জেলার উদ্বৃত্ত দানাদার খাদ্যশস্যের পরিমাণ ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ১ শত ৬৫ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় অধিক খাদ্যশস্য উৎপাদনে নিঃসন্দেহে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের উপজেলাগুলোর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।
কৃষিতে, বিশেষ করে ধান উৎপাদনে সমৃদ্ধ কৃষকদের সমস্যাও কিন্তু কম নয়। বর্তমানে সেচ ব্যবস্থা অনেকটাই বিদ্যুৎনির্ভর। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও ভরা মৌসুমে প্রায়ই বিদ্যুতের লুকোচুরি চলে। এছাড়া বন্যা, শিলাবৃষ্টি, ঝড়-ঝাপটা ইত্যাদি দুর্যোগ তো আছেই। এ অঞ্চলের মানুষের মূলত বোরো ধানের ফসলটাই সম্বল।
এই ধান পাকার সময়টাতেই প্রকৃতি বিরূপ হয়ে ওঠে। কৃষকদের দিন কাটে দুশ্চিন্তায়। কখন কালবৈশাখী বা শিলাবৃষ্টিতে তাঁদের পাকা ধানের চরম ক্ষতি হয়ে যায়, এ ভাবনায় তাঁদের বহু নির্ঘুম রাত কাটে। এমনও হয় যে, পরদিন ধান কাটার সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে কৃষক ঘুমাতে যাবেন। এমন সময় শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। অথবা, হয়তো বন্যার পানি এসে তাঁদের চোখের সামনেই তলিয়ে নিয়ে যায় সব ফসল। ফসলের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাঁদের স্বপ্নগুলোও। হাওরের কৃষকদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা খুব একটা বিরল নয়।
ধান কাটার সময়ও দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। এ সময় ধান কাটার শ্রমিকের সংকটটা বেশ প্রকট। তবে ইদানীং ধান কাটার ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্র যোগ হওয়ায় এ সংকট বেশ কিছুটা কমেছে। এ বছর বোরো ধান তোলার সময় শুধু মোহনগঞ্জেই প্রতি দিন ৬০টি কম্বাইন হারভেস্টার কাজ করেছে। আর একটি হারভেস্টার ১০০ জন শ্রমিকের সমান কাজ করতে পারে। এ সুবিধাটা শুধু মোহনগঞ্জ নয়, অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এ বছর আগাম বন্যা না হওয়ায় কৃষকদের পক্ষে নিরুপদ্রবে ধান ঘরে তোলার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু প্রতি বছরই বন্যা হবে না, এমন তো নয়। তাই, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো যথা সময়ে ঠিকঠাক করে রাখতে হবে। হাওরের ফসল সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারলে কৃষকদের জীবন যেমন নির্বিঘ্ন হবে, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিও তেমনি সমৃদ্ধ হবে। ফলে, নিশ্চিত হবে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা।

আমাদের হাওরাঞ্চলের জমি থেকে ধান পরিবহনের ক্ষেত্রে এখন আর গরুর গাড়ি দেখা যায় না বললেই চলে। কৃষকদের মাথায় করে ধানের বোঝাও নিয়ে যাওয়াটার দৃশ্যটাও আগের মত ধরা পড়ে না। এখন এসবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে আধুনিক যন্ত্রচালিতবিভিন্ন গাড়ি। তাই হাওরের ভেতরের ছোট ছোট রাস্তাগুলো এসব গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সুন্দর যোগাযোগ অবকাঠামো আমাদের কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করে তুলবে। কৃষকদের জন্য কৃষিপণ্য ঘরে তোলাটাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
হাওরাঞ্চলের এক বিশাল আকর হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান বর্তমানে দ্বিতীয়। আর চাষের মাছ উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের স্থান পঞ্চম। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় হওয়ার ক্ষেত্রে হাওরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাওরাঞ্চলকে বলা যায় প্রোটিনের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। হাওরবাসীরা মাছ উৎপাদন ও আহরণে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
নেত্রকোণা জেলা মৎস্য অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নেত্রকোণা জেলার মৎস্য সম্পদের চাহিদা ছিল ৫৫ হাজার ৫ শত ৮৪ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন। উৎপাদিত/আহরিত হয়েছে ৮৯ হাজার ৮ শত ১৫ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত মৎস্য সম্পদের পরিমাণ ৩৪ হাজার ২ শত ৩১ দশমিক ০২ মেট্রিক টন। মিঠাপানির এই সুস্বাদু মৎস্যভাণ্ডার দেশের চাহিদাতো মেটাচ্ছেই, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখছে।
এর সাথে শুধু হাওরবাসীদের নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাও জড়িয়ে আছে। হাওর থেকে মৎস্য আহরণ ও বিভিন্ন জায়গায় তা সরবরাহ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ‘সুনীল অর্থনীতি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে বেগবান করার ক্ষেত্রে এ অর্থনীতির পরিচর্যা করা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের এ সম্পদের সংরক্ষণ, আহরণ ও বিপণন ব্যবস্থায় প্রাণ সঞ্চার করতে হবে।

হাওরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে হিমাগার নির্মাণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় মৎস্য সংরক্ষণ করা যায়। আর বিশেষ সময়ে এ অঞ্চলের মৎস্য চাষ বা ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত। মৎস্যচাষীদের প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করাটাও জরুরি। এর জন্য বড় অংকের টাকা খরচ করতে হবে এমন নয়, তবে কাজ এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা প্রদান করতে হবে।
আমার জন্ম নেত্রকোণার মদন উপজেলার জালিয়ার হাওর তীরবর্তী বাউশা গ্রামে। বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিচ্ছবি বলা যায় আমাদের এলাকাটিকে। কৃষিনির্ভর এই এলাকাটির জীবনধারার সাথে হাওরাঞ্চলের যেকোনো এলাকার জীবনধারা অনেকটাই মিলে যাবে। আমাদের ছোটবেলায় একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়াটা ভীষণ কষ্টসাধ্য ছিল। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বাড়ির একদম কাছে হলেও বর্ষাকালে সেখানে পৌঁছুতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হতো। ভরা বর্ষায় প্রতিদিন নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম, যদি দয়া করে কেউ খালটা পার করে দেন! অনেকেই বিরক্ত হতেন। আবার অনেকেই ছাত্র মানুষ বলে পার করে দিতেন।
হাওর এলাকার সর্বত্রই এ অবস্থা ছিল। এখন অবশ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো বর্ষাকালে রাস্তাগুলো পানির নিচে থাকে, সেসব এলাকায়ও বাণিজ্যিক নৌকার অভাব নাই। আর তাও পাওয়া যায় মোটামুটি কম টাকায়ই। আগে মানুষ ছোটবড় সাধারণ নৌকায় চলাচল করত। যন্ত্রচালিত নৌকা ছিল না বললেই চলে। ফলে নৌকাডুবিতে প্রাণহানি ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। খারাপ আবহাওয়ায় কারও মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা বা মদনের ঝালিয়ার হাওর অথবা তলার হাওর পাড়ি দিতে হলে মোটামুটি জীবনবাজি রেখেই ঘর হতে বের হতে হতো।
আগে কোনো প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কিছুটা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার চিন্তা করত না কেউ। এখন অবশ্য কেবল বিনোদনের জন্যও মানুষ হাওর দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ে। ফলে, হাওরাঞ্চল ক্রমশ পর্যটনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই গড়ে ওঠা এ পর্যটন শিল্প হাওরের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য খুলে দিচ্ছে অমিত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক উন্নতির দুয়ার। অর্থনৈতিক মানদণ্ডে এটা কম কথা নয়! কোনো অবকাঠামো নেই, কোনো সুযোগ সুবিধা নেই; তবুও দূর-দূরান্ত থেকে হাওরের নির্মল সৌন্দর্য দেখতে মানুষ আসছে। এই বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্রটাকে লুফে নেওয়া উচিত।

তবে এক্ষেত্রে রাতারাতি কোনো অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। কিছু সমস্যার খুব দ্রুতই সমাধান করা যায়। মোহনগঞ্জের তেঁতুলিয়া থেকে ডিঙ্গাপোতা হাওরের শুরু। এখান থেকেই গাগলাজুর, লেপসিয়া বাজারের যাওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত লোকের সমাগম ঘটে। কিন্তু এখানে কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ছোট একটি মসজিদের একটি শৌচাগার আছে, তবে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই।
মদন উপজেলার উচিতপুর ইতোমধ্যেই মানুষের মুখে মুখে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানকার অবস্থাও একই। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনুযায়ী, এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে গণ-শৌচাগার নির্মাণ খুব ব্যয়বহুল নয়। দরকার শুধু সৃজনশীল পরিকল্পনা আর প্রশাসনিক উদ্যোগ।
হাওরাঞ্চলে পর্যটকদের আবাসনের জন্য কিছু কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব সাজ্জাদুল হাসানের প্রচেষ্টায় নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শ নগরে পর্যটকদের জন্য ৭ কোটি ৪৬ লক্ষ ৪ হাজার ৫ শত ৪৬ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটা বিশ্রামাগারের দোতলার নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর নিচতলায় অফিস, ক্যান্টিন ও প্রার্থনাকক্ষ এবং দোতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। পরে এর তৃতীয় তলা নির্মিত হবে।

মদন উপজেলার উচিতপুরেও তাঁর প্রচেষ্টায় পর্যটকদের জন্য আরেকটি বিশ্রামাগার নির্মিত হয়েছে। মদনের উচিতপুরে বেসরকারি মালিকানায় একটি কফিহাউজও গড়ে উঠেছে। এভাবেই ধীরে ধীরে হাওরের পর্যটনের ভিত্তি গড়ে উঠছে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, কোনোভাবে যেন প্রাকৃতিক পর্যটনস্থলে উপদ্রব না ঘটায়। এ অঞ্চলের পর্যটনস্থলগুলো নিরাপদ থাকলে সারাদেশ থেকে হাওর দেখতে আসা জনস্রোত অব্যাহত থাকবে। আর এতে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এই ক্ষেত্র থেকে অর্থ উপার্জনের পথও সুগম হবে।
হাওরাঞ্চল পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর ইত্যাদি জায়গা থেকে পাথর ও বালু বোঝাই বহু কার্গো জাহাজ জামালগঞ্জ হয়ে ধনু নদী পার হয়, তারপর মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর হয়ে খালিয়াজুড়ি উপজেলার লেপসিয়া বাজারের পাশ দিয়ে একেবারে ভৈরব; এরপর নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পণ্য সরবরাহ করে। স্থলপথের চেয়ে জলপথে এসব পণ্য পরিবহন যেমন সহজসাধ্য, তেমনি কম ব্যয়সাপেক্ষ। এই পরিবহন ব্যবস্থা যদি নিরাপদ ও সচল রাখলে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির চাকাতেও গতি বজায় থাকবে।
হাওরের ভয়ঙ্কর ঢেউ থেকে গ্রামগুলোর রক্ষাকবচ হিজল করচ বাগান কোনোরূপ যত্ন ছাড়া, একেবারেই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে। ওদের যেন জন্মই হয়েছে গ্রাম আর গ্রামের মানুষকে বাঁচানোর জন্য আজীবন সংগ্রাম করতে। হাওরের সৌন্দর্য আর সম্পদ নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু, পূর্বে যোগাযোগ অবকাঠামো আর সুযোগ-সুবিধার অভাবে হাওরের প্রতি মানুষের এতটা আগ্রহ ছিল না। এছাড়া আগের চেয়ে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষেরা চিত্ত-বিনোদনের কথাও ভাবছে। সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে হাওর সম্পর্কে জেনে অনেকে ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছে।
শুধু নেত্রকোণায়ই নয়, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠছে। হাওরের বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠছে ছোট ছোট হোটেলসহ দোকানপাট। এতে লাভবান হচ্ছে হাওর অঞ্চলের নিম্ন আয় থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষ। ধীরে ধীরে পর্যটনটা এখানে একটি আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠছে।
কৃষি, মৎস্য উৎপাদন/আহরণ, নৌপথে পণ্য পরিবহন আর স্বতঃস্ফূর্ত পর্যটনকে ঘিরে হাওরাঞ্চলের যে ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠছে, তাকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই। বরং দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি হাওরের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেন, তবে হাওরবাসী যেমন উপকৃত হবেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাবও হবে সূদুরপ্রসারী। আমাদের এসডিজি অর্জনেও তা সহায়ক হবে। তাই হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সুদৃষ্টি বিশেষভাবে কাম্য।
মো. মোতাহার হোসেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
