গত শনিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কন্টেইনার ডিপোতে মারাত্মক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দমকল বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টাতেও আগুন যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। বরং থেমে থেমে বিস্ফোরণের ফলে আগুনের লেলিহান শিখায় ঐ জায়গাটা যেনঅগ্নিপুরীতে পরিণত হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঐ স্থানে কনটেইনারে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড নামক এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মজুদ থাকার কারণে আগুন এতোটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই আগুন আর হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মধ্যকার সমীকরণটা নিয়ে বেশ কৌতূহল জাগে।
সহজ কথায়, এটি একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন তরল পদার্থ। এটি নিজে দাহ্য পদার্থ নয় তবে একটি শক্তিশালী অক্সিডাইজিং এজেন্ট। তাই বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে সাধারণত এর জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটি কীভাবে আগুনের মাত্রা বাড়ায়?
আগুন জ্বলতে সাধারণত তিনটি বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। তাপ, প্রভাবক (বা ফুয়েলও বলা যেতে পারে) এবং অক্সিজেন। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড একটি শক্তিশালী অক্সিডাইজিং (জারক) এজেন্ট হওয়ায় এটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তাই তাপ এবং অক্সিজেন এই উভয়ের সংস্পর্শে আসলে এই রাসায়নিক পদার্থটি আগুন সৃষ্টির চক্রটি পূর্ণ করে। তাপমাত্রা যত বাড়তে থাকবে, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড তত সক্রিয় হতে থাকবে এবং ছোট্ট একটি আগুনের শিখাকে একটি অগ্নিকুন্ডে পরিণত করে ফেলতে পারে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে এই তিনটি উপাদানের যেকোনো একটি অপসারণ করতে পারলেই কেবলমাত্র আগুন নেভানো সম্ভব। আগুন নেভানোর কাজে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ব্যবহার করতে হবে যাতে সেখানকার তাপমাত্রা কমে আসে। বালি, ফগ সিস্টেম বা ফোম ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করেও আগুন নেভানো যেতে পারে। তবে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ড্রাই কেমিক্যাল ব্যবহার করা যাবে না (কারণ এর ফলে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়)।
কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
ত্বকের হালকা কাটা-ছেড়া বা পুড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৃদু অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে, কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রাণীর খুলি এবং হাড় চকচকে করতেো ব্যবহৃত হয়।মাথার চুল ব্লিচ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। পানি শোধনে ডিজিনফেকটেন্ট (জীবাণুনাশক) হিসেবে।
পানি থেকে ক্লোরিন দূর করতে, কম্পিউটারের সার্কিট বোর্ড পরিষ্কার করতে, পেপার এবং পাল্প ইন্ডাস্ট্রিতে ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে, বিভিন্ন কিছু বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে, জীবাণুমুক্ত প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার দেখা যায়।
এছাড়াও টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ,ডিশওয়াশার, বাথরুম ক্লিনার এবং কাপড়ের দাগ করতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়।
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের সংস্পর্শে আসলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং পুড়ে যেতে পারে।
চোখের সংস্পর্শে আসলে জ্যোতি চলে যেতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে গেলে নাক এবং গলায় জ্বালাপোড়া হওয়ার পাশাপাশি কাশি ও দম ফেলতে সমস্যা হতে পারে। অনেক বেশি সময় ধরে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে পানি জমে ( পালমোনারি ইডিমা বলে) যেতে পারে।
মাথাব্যথা, ঘুমঘুম ভাব, মাথাব্যথা বা বমি হতে পারে।
পরবর্তীতে জেনেটিক মিউটেশন ঘটাতে পারে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
