জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড - য়ের মানহানি মামলা কয়েক মাস ধরেই সিনে-মহলে শিরোনাম হয়ে আছে। কোর্টে মামলার প্রতিটি দিক, অডিও - ভিডিও ক্লিপ, সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছিল গণমাধ্যমগুলোতে। কমতি ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটিজেনদের মাঝেও।
বিগত কয়েক বছরের হিসেবে এটিই বহুল আলোচিত একটি মানহানির মামলা যা মাতিয়ে রেখেছে পুরো বিশ্বকে। তবে এরকম মামলা একটি নয়। ডেপ - হার্ড ছাড়াও কোর্ট - কাছারির চক্কর দিতে দেখা দিয়েছে অনেক তারকাদের।
ব্রিটনি স্পিয়ার্স বনাম জেমি স্পিয়ার্স (২০২১)

ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও জেমি স্পিয়ার্স ছবি: পেজসিক্স
বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ব্রিটনির বাবা জেমি স্পিয়ার্স। মূলত বাবার অধীনেই দীর্ঘ ১৩ বছর ‘কনজার্ভেটরশিপ’ চুক্তিবদ্ধ ছিলেন ব্রিটনি।
ব্রিটনির তার বাবার প্রতি নিজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এছাড়াও কোর্টকে জানান যে জিমি নিয়মিত তাকে লভ্যাংশ দিতেন না। এমনকি তার বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিষয়েও হস্তক্ষেপ করতেন বাবা।
এফবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমি তার মেয়েকে কড়া নজরদারিতে রাখতেন। গোয়েন্দা রেখেছিল ব্রিটনির কী করেন জানার জন্য, এমনকি বেডরুমে গোপন ক্যামেরাও লাগিয়েছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে এই কনজারভেটরশিপ বাতিল ঘোষণা হয়।
অ্যাশটন কুচার ও ডেমি মুর (২০১৩)
অ্যাশটন কুচার ও ডেমি মুর ছবি: কইমই ডট কম
যখন বিয়ে হয় তখন অ্যাশটনের বয়স ২৫ আর ডেমির ৪০। ১৫ বছরের পার্থক্যই অনেকে মনে করেন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ। তবে অভিনেত্রী ডেমি মুর তার বই ‘ইনসাইড আউট’ - এ বলেন ভিন্ন কিছু।
অ্যাশটনের প্রতি তার ভালোবাসার কমতি ছিল না। বয়সের পার্থক্যকে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ বলে মনে করেননি।
ডেমির মতে তার নিজের ড্রাগের প্রতি আসক্তি আর অ্যাশটনের একাধিক নারীর সঙ্গে স্ক্যান্ডাল’ই তার বিয়ে ভাঙ্গার অন্যতম কারণ। তাই আর দেরি না করে ডিভোর্সের আবেদন করেন এই অভিনেত্রী।
২০১১ সালে ডেমির করা বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের রায় আসে ২০১৩ সালে। টেক্সাসের আদালত ড্যামি মুরের পক্ষে রায় দেন। এতে করে ২৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হন অভিনেতা অ্যাস্টন কাচার।
জেসে জেমস ও সান্দ্রা বুলক (২০১০) 
জেসে জেমস ও স্যান্দ্রা বুলক ছবি: দ্য হলিউড রিপোর্টার
অস্কারজয়ী অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল জেসের। তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে সান্দ্রা জানতে পারেন যে ওই সময়টাতে জেসে অন্য নারীদের সময় দিচ্ছিলেন।
এরপর এক মাসের মধ্যেই সান্দ্রা বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন। তাদের বিয়ের একটি শর্ত ছিল। শর্তটি হলো বিবাহ বন্ধনে থাকা অবস্থায় জেসে যদি পরকীয়া করে এবং সান্দ্রা যদি প্রমাণ করতে পারেন তবে বিচ্ছেদের আবদনের সময় সান্দ্রার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। অর্থাৎ জেসে ল'স্যুটের আইন অনুযায়ী সান্দ্রার থেকে কোনো টাকা পাবেন না।
জেসে পরবর্তীতে সান্দ্রাকে তার একাধিক নারীর প্রতি আসক্তির কথা জানান। তিনি নিউইয়র্কে একটি রিহ্যাবে ভর্তি হন। এদিকে সান্দ্রা তাদের বিয়ের কন্ট্র্যাক্ট অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেন যেখানে ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড (২০২২)
জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড ছবি: সিএটাইমস
২০০৯ সালে সিনেমা ‘দ্য রাম ডায়েরি’ থেকে জনি ও অ্যাম্বারের প্রেমের শুরু। তাদের বিয়ে হয় ২০১৫ সালে।
বিয়ের এক বছরের মাথায় অ্যাম্বার হার্ড বিচ্ছেদের আবেদন করেন। শুধু বিচ্ছেদ নয়, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
২০১৮ সালে পত্রিকা ‘দ্য সান’ জনি ডেপকে ‘ওয়াইফ বিটার’ বলে শিরোনাম করেন। জনি পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে হেরে যান। এতে করে ওয়ার্নার ব্রাদার্স -এর ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা হাত ছাড়া হয়ে যায় পর্দার প্রিয় ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর (পাইরেটস ওব দ্য ক্যারিবিয়ানে ডেপের অভিনীত চরিত্র)।
তবে ধীরে ধীরে ঘটনা মোড় নিতে শুরু করে। অভিনেতা জনি ডেপ তিনটি মানহানির মামলা করেন অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের ২রা জুন ভার্জিনিয়ার আদালত জনি ডেপের পক্ষে রায় দেন। অ্যাম্বারের বিরুদ্ধে করা তিনটি মানহানি মামলায় সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। ভার্জিনিয়ার আদালত অ্যাম্বারকে ১৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে রায় দিয়েছে। অপরদিকে শুনানি চলাকালে ডেপের আইনজীবীর করা কুমন্তব্যের জন্য তাকেও ২ মিলিয়ন ডলারের পেনাল্টি দেন আদালত।
ডেপ ও অ্যাম্বারের এই কোর্ট কাহিনী অনেক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা দখল করে রেখেছিল, যেখানে মামলার শুরুর দিকে জনি ছিল স্ত্রী নির্যাতনকারী একজন দানব আর বর্তমানে অ্যাম্বার হার্ড হচ্ছেন ট্রলের স্বীকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার বিরুদ্ধে ট্রেন্ড করছে লক্ষাধিক মিম।
মোঃ ইমরান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
imran.tweets@gmail.com
