হবিগঞ্জের তিন উপজেলার ৪০ গ্রাম পানির নিচে


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: June 19, 2022 14:02:57 | Updated: June 20, 2022 12:10:34


প্রতীকী ছবি — ফোকাস বাংলা

সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পর বন্যার কবলে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলা; দুদিনের অঝোর বৃষ্টিতে উজানের ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে বন্দি হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জানিয়েছেন, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় পানি ওঠার পর দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দেওয়া হচ্ছে শুকনা খাবার।

তবে পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন জানান, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জে বাঁধ উপচে এবং আজমিরীগঞ্জ রাস্তা ভেঙে পানি লোকালয়ে পানি ঢুকেছে।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তাতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারার পানি অমলশিদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার এবং শেওলা পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।

মিনহাজ আহমেদ শোভন জানান, শুক্রবার ভোররাত থেকে বিরামহীন বৃষ্টিতে কুশিয়ারার পানি বেড়ে বাঁধ ডুবে যায়। হাওরে পানি ঢোকা শুরু করলে আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের সড়ক ডুবে হবিগঞ্জের সঙ্গে দু‌ই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিতে শনিবার সকালে আজমিরীগঞ্জের পাহাড়পুর-মারকুলি সড়কের নিখলির ঢালা এবং ফিরোজপুর-বদলপুর সড়কের কৈয়ার ঢালায় কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। তাতে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হতে থাকে বলে জানান প্রকৌশলী শোভন ।

তিনি বলেন, আজমিরীগঞ্জের পৌর এলাকার আদর্শনগর, জয়নগর, শরীফনগর এলাকায় অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া নতুন বাড়ি, ফিরোজপুর, পাহাড়পুর, কাকাইলছেও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মারকুলি এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি উঠেছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার্তদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নোমান হোসেন তার এলাকায় অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন ইতোমধ্যে তিনশ মানুষকে কয়েক দফায় আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বানিয়াচং উপজেলা বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যাকবলিতদের জন্য্য ৪০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এসব প্যাকেটে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, চিনি ছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট, খাবার স্যালাইন এবং মোমবাতি ও দিয়াশলাই রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন জানান, এর মধ্যে ৩০ হাজার প্যাকেট রাখা হয়েছে হবিগঞ্জের জন্য। আর পাঁচ হাজার প্যাকেট করে সুনামগঞ্জে ও সিলেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। খাবারের প্রয়োজনে ৩৩৩ হটলাইনে ফোন করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে।

Share if you like