Loading...

স্মৃতিশক্তি ভালো রাখবেন যেভাবে

| Updated: June 28, 2022 10:28:01


ছবি: ভেরিওয়েলমাইন্ড ডট কম ছবি: ভেরিওয়েলমাইন্ড ডট কম

কোনো একটা উদ্দেশ্যে রান্নাঘরে গিয়ে হঠাৎ ভাবতে শুরু করলেন, ‘আমি কেন রান্নাঘরে এসেছি’, গাড়ির চাবিটা যে কোথায় রাখেন আজকাল সেটা প্রায়ই মনে থাকে না, কথা বলার মাঝে কারো নাম বলতে গিয়ে কিছুতেই যেন নামটা মনে আসে না আর, গুরুত্বপূর্ণ কারো সাথে দেখা করাটা মিস হয় গেছে কারণ এই ব্যাপারটা স্মরণ থেকে যেন একদম চলে গেছে– এরকম অনেক কিছুই মানুষ প্রায়ই ভুলে যায়। স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা সাধারণ বলে মনে হলেও, বিষয়টাকে কিন্তু হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

যেকোনো বয়সেই ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তাই ধরে নেওয়া হয় বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তো এমনটা হয়। কিন্তু, না। ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়। মূলত অর্গানিক ডিজঅর্ডার, ব্রেইন ইনজুরি বা নিউরোলজিক্যাল অসুস্থতার কারণে স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে যায়। তাই সবসময় স্মৃতিশক্তিকে সুরক্ষিত এবং তীক্ষ্ণ রাখতে গবেষকদের মতামত অনুযায়ী কিছু কাজ বা অভ্যাসের নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন।

নতুন কিছু শেখা 

নতুন কিছু শিখতে গেলে প্রচুর ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ হয় এবং এর ফলে যথেষ্ট মানসিক কসরত হয়। আর এই মানসিক কসরতের ফলে মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ উত্তেজিত হয় ও একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। পুরো ব্রেইন তখন একটিভ অবস্থায় চলে আসে এবং এই কারণে স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ হয়।

পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে ব্যবহার করা

বিজ্ঞানীদের মতে কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে সব ইন্দ্রিয়গুলোকে যত বেশি কাজে লাগানো যায়, কোনো কিছু মনে রাখার ক্ষেত্রে ব্রেইন তত বেশি সক্রিয় হয়।

পুনরাবৃত্তি করা

কোনো কিছু মাত্র শুনেছেন, পড়েছেন বা চিন্তা করেছেন এবং এই বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে চাইলে বারবার করে জোরে জোরে আওড়াতে হবে বা লিখতে হবে। এর ফলে বিষয়গুলো স্মৃতিতে গেঁথে যায়। 

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম

শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ব্রেইনসহ পুরো শরীরের রক্ত প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ব্রেইনের কোষোগুলো সতেজ থাকে এবং স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করে তোলে।

মানসিক পরিশ্রম

শারীরিক পরিশ্রম যেমন শরীরকে ঠিক রাখে, ঠিক তেমনি মানসিক পরিশ্রমও ব্রেইনকে ঠিক রাখে। ফলে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিও প্রখর হয়। মানসিক পরিশ্রমের জন্য সুডোকু, শব্দভেদ, ক্রসওয়ার্ড পাজল শেখা যেতে পারে বা ড্রাইভিং এর সময় বিকল্প পথ দিয়ে নতুন করে পথের সন্ধান করতে করতে বাড়ি ফেরা যেতে পারে বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা যেতে পারে। 

সামাজিকতা

মানুষের সাথে যত বেশি পরিচয় হবে, কথাবার্তা হবে বা ভাবের আদানপ্রদান হবে; জীবনে হতাশা এবং বিষাদের মাত্রা ঠিক ততটাই কমতে থাকবে। এই দুইটা জিনিস মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই প্রিয় মানুষ, বন্ধুবান্ধব বা যাদেরকে ভালো লাগে, সুযোগ করে তাদের সাথে দেখা করা বা কথা বলাই যায়। 

গুছিয়ে কাজ করা

অগোছালোভাবে কাজ না করে সবকিছু একটু গুছিয়ে করলে, পরবর্তীতে বিষয়গুলো মনে করা বা খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে স্মৃতিপটে তা খুব সহজেই ভেসে উঠে। এই যেমন – গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথাগুলো একটা ছোট্ট ডায়েরি বা নোটপ্যাডে লিখে রাখা, জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা এবং কোনো একটি কাজ করার সময় অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে সেই কাজটাই গুরুত্বের সাথে করা।

ভালো ঘুম

পর্যাপ্ত এবং কোয়ালিটি ঘুম কতকিছুর জন্য যে মহৌষধ! ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তিকে তাগড়া রাখতে সাহায্য করে। তাই ঘুমের সাথে কোনো সমঝোতা নয়!

মেডিটেশন করা

নিয়মিত মেডিটেশন করলে অনেক উপকারের পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তিকে তীক্ষ্ণ করে। 

স্বাস্থ্যকর খাবার

ব্রেইনকে ভালো রাখতে হলে ফলমূল, শাকসবজি, শস্যদানা, মাছ, শিম, চামড়া ছাড়া মুরগী – এইগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকা খুবই জরুরি। 

অতিরিক্ত মদ্যপান বা মাদক সেবনের অভ্যাস থাকলে তা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত, কারণ এর ফলে স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পায়। 

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি  অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic