চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের দৈনিক সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও পরিস্থিতি এখনও নিরাপদ নয় বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত ১০ দিনে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার প্রায় ১২ শতাংশ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৯ শতাংশের ঘরে। এই সময়ে ২ জন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলছেন, শনাক্তের হার ৩-৫ শতাংশের মধ্যে যদি টানা দুই সপ্তাহ থাকে, কেবল তখনই পরিস্থিতি নিরাপদ মনে করা যেতে পারে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সংক্রমণের হার কম থাকলেও যে কোনো সময় এটা বাড়তে শুরু করতে পারে। আত্মতুষ্টিতে ভোগার মত অবস্থা এখনো হয়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম জেলায় মোট ২৭৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল; শনাক্তের হার ছিল ২১.৩২ শতাংশ।
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে এ বছরের শুরু থেকে সারা দেশের মত চট্টগ্রামেও সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
এক পর্যায়ে জেলায় দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২৪ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পৌঁছায় ৪০ শতাংশে। তারপর থেকে ধীরে ধীরে শনাক্তের হার কমছে।
গত বুধবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) গবেষণা ফলাফলের প্রসঙ্গ ধরে সিভিল সার্জন বলেন, যে ধরনের কথা ওই গবেষণায় বলা হচ্ছে, এ ভাইরাস অতি সংক্রমণশলী। তাই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বেপরোয়া চলাফেরা করলে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করবে।
বৃহস্পতিবারও সারাদেশে এ ভাইরাসে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, শুধু চট্টগ্রামে শনাক্ত বা মৃত্যু হার কম- বিচ্ছিন্নভাবে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।
সিভাসুর কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন বিষয়ক গবেষণা দলের সদস্য সহকারী অধ্যাপক ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দাদের নমুনা পরীক্ষায় ওমিক্রনের উচ্চ সংক্রমনশীল একটি উপ ধরনের উপস্থিতি মিলেছে।
পাশাপাশি মিউটেশনও অতি উচ্চ মাত্রার। এতে জিনোম পরিবর্তন হয়ে নতুন উপধারার সৃষ্টি হতে পারে। তাতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবশ্যই জনসমাগমস্থলের পাশাপাশি সবক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা খুব জরুরি।
মহামারী শুরুর পর এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজর ৩৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৪ জন নগরীর এবং ৬২৬ জন উপজেলাগুলোর বাসিন্দা ছিলেন।
জেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮১৯ জনের মধ্যে কোভিড শনাক্ত হয়েছে। তাদের ৯০ হাজার ৭৯৬ জনই নগরীর বাসিন্দা।