Loading...

স্বাদে ও ঐতিহ্যে বালিশ মিষ্টি

| Updated: April 16, 2022 19:59:40


স্বাদে ও ঐতিহ্যে বালিশ মিষ্টি

বালিশ মিষ্টি! এ আবার কেমন মিষ্টি? দেখতে কি বালিশের মতো বড় আর তুলতুলে? 

'বালিশ মিষ্টি' নামটা শুনলে যে কারো মনে এ প্রশ্ন জাগবে। কি এই বালিশ মিষ্টি? এই মিষ্টি সাধরণত আকারে বেশ বড় আর সরু অনেকটা কোলবালিশের মতো এবং সেই সাথে বেশ নরম ঠিক যেন বালিশ। চিনির সিরায় ডুবন্ত মিষ্টি একটাবার দেখলেও জিভে জল আসতে বাধ্য।

সাধারণত ময়মনসিংহ বিভাগের প্রত্যেক জেলায় এ মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে নেত্রকোণা আর কিশোরগঞ্জ জেলা এই বালিশ মিষ্টির জন্য প্রসিদ্ধ। এই মিষ্টির সাথে যেন একদম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে জেলা দুটির নাম। তবে এ মিষ্টি তৈরির প্রথম সূচনা হয় নেত্রকোণায়।

জাম, রসগোল্লা পেয়ে শ্বশুর চটে করলো নালিশ

কথা ছিল আনবে জামাই 'গয়ানাথের বালিশ

বালিশ মিষ্টি নিয়ে এ অঞ্চলে প্রচলিত লোকছড়া এটি। এখানে উল্লিখিত গয়ানাথ-ই আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে এ মিষ্টির প্রচলন শুরু করেন। তার পুরো নাম গয়ানাথ ঘোষ। 'গয়ানাথের মিষ্টান্ন ভান্ডার' নামে নেত্রকোণা শহরে মিষ্টির দোকান ছিল তার। এ মিষ্টি তৈরি করে ক্রেতাদের প্রশংসার পাত্র হন গয়ানাথ। যেহেতু মিষ্টিটা কোলবালিশের মতো দেখতে তাই এর নাম হয় বালিশ মিষ্টি।

একেকটি মিষ্টির ওজন দুই কেজি পর্যন্ত হতে পারে! তবে ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনা করে বর্তমানে আকারে তারতম্য আনা হয়ে থাকে। মিষ্টি খুব বেশি খেতে ভালবাসে এমন মানুষ ছাড়া এই মিষ্টি খেয়ে শেষ করা বেশ কঠিন কাজ। এখন গয়ানাথের দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানেও এ মিষ্টি তৈরি করা হয়।

কিন্তু কিভাবে বানানো হয় এ চমৎকার মিষ্টি? এ মিষ্টি বানাতে লাগে দুধ, ছানা, চিনি ও ময়দা। প্রথমে ছানা আর ময়দার মিশ্রণে মন্ড তৈরি করতে হয়। মন্ড থেকে বানাতে হয় বিভিন্ন আকারের মিষ্টি। পরে তা চিনির গরম রসে ভাজা হয়। ভাজা মিষ্টি ঠান্ডা করে পুনরায় চিনির সিরায় ভিজিয়ে রাখা হয়। এতে মিষ্টি আরো বেশি রসে ভরে যায় আর খেতে সুস্বাদু হয়। পরিবেশনের সময় মিষ্টির ওপর দেওয়া হয় ক্ষীরের প্রলেপ বা দুধের মালাই - যা মিষ্টির স্বাদ এবং সৌন্দর্য দুটোই বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

তবে এ মিষ্টির উদ্ভাবক ১৯৬৯ সালে ভারতে চলে যাওয়ায় বর্তমানে দোকানের স্বত্তাধিকারী খোকন মোদক। আর এখন মিষ্টি তৈরির প্রধান কারিগর রতন পাল। তার কাজে সহায়তা করার জন্য আছে আরো কয়েকজন। নিজেদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা মিষ্টি তৈরির কৌশল সবার সামনে আনতে চান না।

এখন নেত্রকোণা কিশোরগঞ্জের বাইরে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলাতেও সমধিক সমাদৃত এ মিষ্টি। প্রথম দিকে দামে অনেক কম হলেও এখন প্রতিটি মিষ্টির দাম বেশ বেড়েছে। কারো বাড়িতে দাওয়াতে গেলে সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ মিষ্টি সকলের পছন্দ হওয়ার দাবি রাখে। এছাড়া বিয়ে, জন্মদিন সহ সব ধরনের অনুষ্ঠানে এ মিষ্টি বাদ পড়ে খুব কমই।

অর্থী নবনীতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

aurthynobonita@gmail.com

 

 

Share if you like

Filter By Topic