রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের সামনে আত্মসমর্পণ না করা ইউক্রেইনের স্নেক আইল্যান্ডের ১৩ ইউক্রেইনীয় সেনা বেঁচে আছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সোমবার ফেসবুকে এক পোস্টে ইউক্রেইনের নৌবাহিনী এখবর নিশ্চিত করেছে বলে জানায় বিবিসি।
পোস্টে বলা হয়, ‘‘আমাদের ভাইদের বেঁচে থাকা এবং ভালো থাকার খবর জানতে পেরে আমরা দারুণ খুশি।”
দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে এক একটি দিন পার করা ইউক্রেইনীয়দের জন্য স্নেক আইল্যান্ডের ১৩ সেনার বেঁচে থাকার খবর সামান্য হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেইনের অতিক্ষুদ্র দ্বীপ জিমিনি (স্নেক আইল্যান্ড)। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেইনে রুশ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পরদিন গণমাধ্যম ভেসে গিয়েছিল একটি খবরে।
যে খবরে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ বৃহস্পতিবার ক্ষুদ্র ওই দ্বীপটির দখল নিতে আসে এবং সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে বলে।
কিন্তু দ্বীপরক্ষায় দায়িত্বরত সেনারা রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানায় এবং গোলাবর্ষণে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে।
পরে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ করা হলে তারা সবাই নিহত হন। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই রক্ষীদের বীরত্বের প্রশংসা করে তাদেরকে মরণোত্তর যুদ্ধবীর সম্মাননায় ভূষিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিবিসি’ও শুক্রবার সেই খবর প্রকাশ করেছিল। কিন্তু রোববার ইউক্রেইনের স্টেট বর্ডার গার্ড সার্ভিস দ্বীপে ওই সেনাদের বেঁচে থাকার আশার খবর দেয়। বলা হয়, ফেসবুকে একটি পোস্টের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন, দ্বীপে সেনাদের ওই ইউনিট বেঁচে আছে।
সোমবার নৌবাহিনী তাদের বেঁচে থাকার খবর নিশ্চিত করে বলেছে, ‘‘অকুতভয় ওই ১৩ সেনা দুই দুইবার রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাব দিয়েছিল। কিন্তু তারা বেশি সময় ধরে দ্বীপটিকে রক্ষা করতে পারনি।”
রুশ বাহিনী দ্বীপটির সব অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়ায় দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে চেষ্টা করেও সেনাদের কাছে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানায় নেভি সার্ভিস।
