আজকের দুনিয়ায় সোলো ট্রাভেলিং বেশ পরিচিত একটি ধারনা। নিজের সুবিধামত সময়ে, ইচ্ছামত জায়গার উদ্দেশ্যে একখানা ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে বের হবার মাঝে যে স্বাধীনতার স্বাদ আছে, দল বেঁধে ভ্রমণে তা পাওয়া কঠিনই বটে।
তবে এরূপ একাকী ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু প্রাথমিক জিনিস মাথায় রাখা জরুরি। কেননা একাকী ভ্রমণে সঙ্গীর সাহায্য পাবার সুযোগ যে নেই।
প্রথমত, কোথাও যাওয়ার আগে সেই জায়গাটি সম্পর্কে ঠিকঠাক হোমওয়ার্ক করে নেয়া বাঞ্ছনীয়। যেখানে যাওয়া হচ্ছে সেখানে যাওয়ার রাস্তা কী, কোন যানবাহনে যেতে হতে পারে, সেটা কী ধরনের জায়গা, সেখানকার মানুষ কেমন, কোন ভাষায় কথা বলে, বাইরের লোকের সাথে কথাবার্তায় তারা কতটা আগ্রহী- এসব।
সেইসাথে সেখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস কেমন, সে খাদ্যাভ্যাসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা, না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা কী, কিংবা সেখানে কোনো হোটেল-সরাইখানা আছে কি-না-- এ সব কিছুই আগে থেকে একবার জেনে-বুঝে নিতে হবে।
তারপর, যাতায়াত, থাকা, খাওয়া, সবকিছু মিলিয়ে একটি পরিপূর্ণ বাজেট তৈরি করা যায়।
যখনই একাকী কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়, নিজেকেই নিজের সঙ্গী ভাবতে হয়। সোলো ট্র্যাভেলিংয়ের উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিজের সাথে একান্তে সময় কাটানো, নিজেকে জানা, নিজেকে বোঝা। অতএব, নিজের সাথে যত সময় কাটানো যায়, তত ভালো।
নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়াটাই যদি ঘুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্য হয়, তাহলে নতুন কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে সেখানকার ভাষাটা একটু জেনে নিতে হয়। এতে করে যোগাযোগটা ভালো এবং ফলপ্রসূ হবে।
অন্তত ‘ধন্যবাদ,’ ‘দুঃখিত’ জাতীয় কিছু অতি প্রয়োজনীয় শব্দ শিখে যাওয়া ভালো, এগুলো হরহামেশাই কাজে আসবে।
তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশ, হাসপাতাল ইত্যাদির নাম্বার সাথে রাখতে হবে। পয়সাকড়ি সব এক জায়গায় না রেখে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা ভালো।
একাকী ভ্রমণের উপকারিতা অনেক। এমন অনেক কিছু দেখা যায়, শেখা যায়, যা আগে কখনো হয়ত করা হয়নি। অচেনা মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়া যায় বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ ছাড়া, অন্য সংস্কৃতিকে সম্মান করতে শেখা যায়, তাদের জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হয়ে জীবনের নতুন অর্থ অনুধাবন করা যায়।
বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন সোলো ট্রাভেলার ড. বাবর আলীর সাথে কথা হয় সোলো ট্রাভেলিং নিয়ে। তিনি বলেন, “ভ্রমণে গিয়ে হই-হুল্লোড়ের চেয়ে নিজের সাথে আর প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোই আমার পছন্দের। সলো ট্রাভেলে নিজের সাথে সময়টা বেশ ভালোই পাওয়া যায়।”
“আমার নিজের সঙ্গ আমার বেশ পছন্দের। দলবল কিংবা বিশাল কাফেলা নিয়ে ট্রাভেল করলে এমন সব হুজ্জত সামলাতে হয়, যেটা আমার ক্লেশ মনে হয়।”
স্থানীয়দের সাথে ভাববিনিময়ের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন এভাবে, “লোকাল কমিউনিটির সাথে মেশার ক্ষেত্রেও সলো ট্রাভেলাররা বিশাল সুবিধা পেয়ে থাকে। গ্রুপে ট্রাভেল করলে নিজেদের মধ্যেই আড্ডায় মশগুল থাকা হয় সিংহভাগ সময়। সোলো ট্রাভেলারদের এক্ষেত্রে লোকাল কমিউনিটির সাথে মিশে যাবার সুযোগ অবারিত।”
ড. বাবরের বিশ্বাস, “অন্তরে বাহিরের ডাক শুনতে পাওয়া” মানুষ নিজে নিজেই ভ্রমণ করতে পারে। কাফেলা জোগাড় করার প্রয়োজন তাদের হয় না। এ মানুষগুলোর ভাবনা একটাই, “ঝোলা কাঁধে ওঠাও, আর বেরিয়ে পড়ো।”
শুভদীপ বিশ্বাস তূর্য বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।
shuvodipbiswasturja1999@gmail.com
