গবেষকরা দাবি করেন সৃজনশীলতা কোনো জন্মগত গুণ নয়, বরং অন্যসব কাজের মতই পরিশ্রম, একাগ্রতা আর চর্চার মাধ্যমে অর্জন করার বিষয়। যদি কারো এর বিপরীত ভাবনা মাথায় কাজ করে, তবে অবশ্যই তা নিয়ে ভাবার দরকার আছে।
অন্য সবকিছুর আগে ভাবতে হবে নিজেকে নিয়েই। কারণ মানুষ কখনো কখনো নিজেই নিজের সৃজনশীলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বাছবিচারের প্রবণতা
সৃজনশীল ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাতে চাইলে, যেকোনো ভাবনা বা চিন্তাকে মাথা থেকে বের করে কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকতে হবে। বিষয়টি এমন নয় যে প্রথম ভাবনা বা চিন্তাতেই বাজিমাত ঘটানো সম্ভব। বরং ভাবনার চর্চা জারি থাকলে এবং শুরুতেই বাছবিচারে না যেয়ে কেবল কাজ করে গেলে একটা সময় এসে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরা যায়।
তাই বলাই বাহুল্য, সৃজনশীলতার ময়দানে শুরুতেই বাছবিচার ক্ষতির পাল্লাই ভারী করে।
সাহসের অভাব
সৃজন ক্ষমতা বাড়াতে সাহসের বিকল্প নেই। নতুন কিছু ভাবা কিংবা নতুন কিছু গড়ার পরিকল্পনা করতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন হয়।
অনেকসময় দেখা যায় কেউ হয়তো খুব চমৎকার এক ভাবনা মাথায় এনে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে। আর ঠিক সে সময়ে অন্য কেউ তার ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দারুণ কিছু করে ফেলে। পার্থক্য এখানেই। কেউ শুধু ভেবেই ক্ষান্ত দেয় আর কেউ সাহসীকতার সঙ্গে ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়।
ব্যর্থতা নিয়ে ভাবতে থাকা
ব্যর্থতার ভয় বুকে নিয়ে নিজেকে সৃজনশীল করে তোলা মুশকিল। কী পাবো, কী না পাবো তার চাইতে কী করব, আরও কী করা গেলে কাজটি বেশি ভালো হয় - এমন ভাবনা নিয়ে পথ চলতে পারলে সৃজনশীল দুনিয়ায় প্রাপ্তির সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে বহুগুণে।
তুলনা
অন্যের সাথে নিজের তুলনা করার চর্চা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।ফলে গতানুগতিক কর্ম ইদানীং যেন বেশিই চোখে পড়ে। সবই যেন একইরকম, একই ঢঙে, একই ভাবনায় গাঁথা।
সৃজনশীলতার মাঠে এমন অনুর্বরতা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ তুলনা করার মানসিকতা। কে কী ভাবছে বা করছে তার সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনা। ফলে মৌলিক কিছু সৃষ্টির সম্ভাবনা মাঠেই মারা পড়ছে। অথচ সবারই জানা আছে যে প্রতিটি মানুষই ভিন্ন ভিন্ন ভাবনার কারিগর হিসেবে জন্মায়।
সবকিছুর মানে খোঁজা
সব কথার মানে থাকা জরুরি নয়। আনন্দ পেতে চাইলে মানে থাকা কথাই ফলাতে হবে সবসময় - এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ বিষয়টিও নিজেদের সৃজনশীলতার পথে অতিমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। যে বা যারা শুধু মানে নিয়েই ভাবতে থাকে তারা নিজেরাই নিজেদের চমৎকার সৃজন ক্ষমতাকে ধ্বংস করে।
উদাহরণ হিসেবে সিনেমার কথা বলা চলে। এমন অনেক সিনেমা রয়েছে যেগুলোর বিশেষ কোনো অর্থ নেই, নেই কোনো লুকায়িত মর্ম বা শিক্ষা। কিন্তু এই সিনেমাগুলো দর্শকদের মন জয় করে নেয় এদের সৃষ্টিসীলতার জন্য, যার হয়তো আপাত কোনো অর্থ দাঁড়ায় না।
সমালোচনা নিতে না পারা
পৃথিবীতে এমন অনেক সাহিত্যিক আছেন যারা তাদের সাহিত্যকর্মের সমালোচক হন্নে হয়ে খুঁজে বেড়িয়েছে্ন।
আর তা করতে পারার একমাত্র কারণ তারা কখনোই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত কিছু ভাবেননি। তারা জানতেন সঠিক সমালোচনা যে কাউকে আরও উন্নত করে, পরোক্ষভাবে এগিয়ে যাওয়ার রসদ জোগায়।
মনে রাখা ভালো, স্রষ্টা একেকজনকে চাইলেই আর যে কারো মতো চেহারা, ভাবনা, ইত্যাদি দিতে পারতেন। কিন্তু এমনটা ঘটেনি। বরং মৌলিক সব কিছু উজাড় করে দিয়ে তিনি হয়ত এমনটাই জানান দিতে চেয়েছেন তুমি মৌলিক; তুমি আলাদা কিছুই গড়ো!
সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
sanjoydatta0001@gmail.com