সুদানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত জনতার ওপর সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতের এই ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খবর বার্তা সংস্থা রয়টর্সের।
সোমবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার ও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির পর প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।
রাজধানী খার্তুমে সৈন্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় বিক্ষোভ আয়োজকদের গ্রেপ্তার করছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
এই অভ্যুত্থান বিশ্বব্যাপী নিন্দা কুড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ৭০ কোটি ডলারের একটি ত্রাণ সহায়তা স্থগিত করেছে।
অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করেছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
দুই বছর আগে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওযার পর বেসামরিক নেতা ও সামরিক বাহিনীর নেতাদের নড়বড়ে এক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে সে সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল সুদান। দেশটিকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সামরিক-বেসামরিক সার্বভৌম পরিষদ। কিন্তু তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ বেড়েই চলছিল।
ক্ষমতা গ্রহণের পর জেনারেল বুরহান ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর এ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
রাজধানী খার্তুম থেকে বিবিসির প্রতিনিধি মোহামেদ ওসমান জানান, সোমবার রাতে খার্তুমে ও অন্যান্য শহরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে বেসামরিক শাসন পুনর্বহালের দাবি জানায়।
আহত এক বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের জানান, সামরিক সদরদপ্তরের সামনে সেনাবাহিনী তার পায়ে গুলি করেছে। অপর এক বিক্ষোভকারী জানান, সৈন্যরা প্রথমে স্টান গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় তারপর গুলি ছোড়ে।
দুই জন মারা গেছেন। আমি স্বচক্ষে তাদের দেখেছি, বলেন আল-তায়েব মোহাম্মদ আহমেদ।
সুদানের চিকিৎসক ইউনিয়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ও সামরিক কম্পাউন্ডের সামনে গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ফেইসবুকে লিখেছে।
খার্তুমের একটি হাসপাতাল থেকে আসা ছবিতে রক্তাক্ত কাপড়ে থাকা লোকজন ও বহু আহতকে দেখা গেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
সুদানের প্রধান বিরোধীদলীয় জোট ফোর্সেস অব ফ্রিডম এন্ড চেঞ্জ টুইটারে জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে রাস্তায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা।
বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সহিংসতা সত্ত্বেও প্রতিবাদ হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ কমই দেখা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা ইট স্তূপ করে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। বিক্ষোভে অনেক নারীও অংশ নিচ্ছে, সামরিক শাসন চাই না বলে শ্লোগান দিচ্ছে তারা।
খার্তুমের বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট এবং অধিকাংশ ফোন লাইনও বন্ধ আাছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা দেশজুড়ে ধর্মঘট শুরু করেছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা সামরিক হাসপাতালগুলোতে কাজ করতে অস্বীকার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, শুধু জরুরি বিভাগ খোলা আছে।
সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের খবরে বিশ্ব নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছেন।
জাতিসংঘ, ইউরোপী ইউনিয়ন (ইইউ),আফ্রিকান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে।
যাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক ও তার স্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যরা ও অন্যান্য বেসামরিক নেতারা রয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় মিলিত হতে পারে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।