মহামারীর বছরে অনেক মৃত্যু আর দুর্দশার মধ্যেও কিছু সুখের খবর দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট; জাতিসংঘের এ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালে সুখ বেড়েছে বাংলাদেশের মানুষের মনে।
২০ মার্চ বিশ্ব সুখ দিবস সামনে রেখে শুক্রবার দশমবারের মত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক-এসডিএসএন। তাতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে সাত ধাপ।খবর বিডিনিউজ টয়েন্টিফোর ডটকমের।
২০১২ সাল থেকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সুরক্ষা, কাঙ্ক্ষিত গড় আয়ু, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, মানবিকতা, দুর্নীতির ধারণা এবং সার্বিক দুর্দশা- এই সাত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার করে একটি দেশের মানুষ কতটা সুখে আছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। আর সূচকে একটি দেশের অবস্থান চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে গ্যালপ ওয়ার্ল্ড পোল থেকে পাওয়া তথ্য।
সেই হিসেবে ১০ ভিত্তিক স্কেলে এবারের সূচকে বাংলাদেশের সুখের ঝুলিতে সংগ্রহ ৫ দশমিক ১৫৫ পয়েন্ট, বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মধ্যে অবস্থান ৯৪ তম।
আগের বছর ১০৪টি দেশের মধ্যে ৫ দশমিক ০২৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ছিল ১৪৯টি দেশের মধ্যে ১০১তম অবস্থানে।
সুখী দেশের এই তালিকায় গত পাঁচ বছর ধরেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ফিনল্যান্ড। এ বছর দেশটির ঝুলিতে সংগ্রহ ৭ দশমিক ৮২১ পয়েন্ট। শীর্ষ পাঁচে পরের চারটি দেশ হল ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস।
সূচকে ২ দশমিক ৪০৪ পয়েন্ট নিয়ে এ তালিকার সবচেয়ে অসুখী দেশ আফগানিস্তান, মহামারীর মধ্যেই গতবছর যারা তালেবানি শাসনে ফিরেছে। পরের চারটি দেশ হল লেবানন, জিম্বাবুয়ে, রুয়ান্ডা ও বতসোয়ানা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সুখে আছে কেবল নেপাল, হিমালয়ের এ দেশের স্কোর ৫ দশমিক ৩৭৭। এছাড়া পাকিস্তান এ তালিকার ১২১ তম (স্কোর ৪ দশমিক ৫১৬), মিয়ানমার ১২৬ তম (স্কোর ৪ দশমিক ৩৯৪), শ্রীলঙ্কা ১২৭ তম (স্কোর ৪ দশমিক ৩৬২) এবং ভারত ১৩৬ তম (স্কোর ৩ দশমিক ৭৭৭) অবস্থানে রয়েছে।
এবারের প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক জন হেলিওয়েল বলছেন, মহামারীর মধ্যে উদারতার তিনটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে বিশ্বে। ২০২১ সালে দাতব্য কর্মকাণ্ড, অচেনা মানুষকে সহায়তা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে মহামারীর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ।
আরও একটি ভালো খবর এসেছে এবারের প্রতিবেদনে। ২০২১ সালের প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, মানুষের দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপ মহামারীর আগের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছিল। আর এবারের প্রতিবেদনে তা নেমে এসেছে ৪ শতাংশে।