নতুন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাবিতদের নাম চূড়ান্ত করতে শনিবার আবার বৈঠকে বসবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বুধবার বিকালে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর দুই দিন বিরতি দিয়ে পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই বৈঠকে কমিটির অন্য পাঁচ সদস্যের সবাই উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে ৩২২ জনের নাম থেকে কাট-ছাঁট করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
তবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি গঠিত এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, সার্চ কমিটির অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১টায় সার্চ কমিটি আবার মিটিংয়ে বসবেন, এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিন শতাধিক প্রস্তাবিত তালিকা থেকে বাছাই করে ছোট করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপাতত বলতে আমি ইচ্ছুক নয়। শনিবার আবার কথা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংখ্যা সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে না। আইনে যা বর্ণিত আছে ঠিক সেই ভাবে হবে। যত দ্রুত সম্ভব সার্চ কমিটি এটা করবে।
কয়েকজন প্রস্তাবিত তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের যে অনুরোধ জানিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান সামসুল।
জ্যেষ্ঠ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শামসুল এদিনের বৈঠকে ছিলেন।
ব্যাপক আলোচনার মধ্যে ইসিতে নিয়োগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২৭ জানুয়ারি সংসদে পাস হওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সার্চ কমিটি গঠন করে দেন।
আপিল বিভাগের বিচারপতি কে এম ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন।
সার্চ কমিটি গঠনের ১২ দিনে নিজেরা চার দফা বৈঠক করেছে আর বিশিষ্টজনদের নিয়ে তিন দফা বসেছেন।
ইতোমধ্যে তিন শতাধিক নামও পেয়েছে। এখন সুপারিশ চূড়ান্ত করা প্রক্রিয়া চলছে, যার জন্য আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটির হাতে সময় রয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি পরবর্তী সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য ১০ জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করার কথা।
ওই তালিকা থেকে অনধিক পাঁচজনকে বেছে নিয়ে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে একজন হবেন সিইসি, বাকিরা নির্বাচন কমিশনার। আর তাদের উপরই থাকবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার।