Loading...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: অ-কাজে নয়, কাজে লাগান

| Updated: February 27, 2021 18:26:15


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: অ-কাজে নয়, কাজে লাগান

দৃশ্য এক:

দুই বন্ধুর ফোনালাপ

প্রথম বন্ধু: দোস্ত, ইউটিউবে একটা ভিডিও আপলোড করছি দেখতো কেমন হইছে? নিজেই বানাইয়া আপলোড করছি।

দ্বিতীয় বন্ধু: (কিছুক্ষণ পর) আরে মামা তুই তো দারুণ জিনিস বানাইছস! কেমনে করলি আমারে বল।

প্রথম বন্ধু: তেমন কঠিন কিছু না। অ্যাপ দিয়া করছি। এইরকম অনেক অ্যাপ আছে। চাইলে তুইও পারবি। তুই তো অনেক জায়গায় ঘুরতে যাস। সেসব ভিডিও আপলোড করবি দেখবি লোকজন কেমন পছন্দ করে।

দৃশ্য দুই:

অফিসের দুই সহকর্মীর আলাপ

প্রথম জন: জাহিদ ভাই আমরা সাত দিন ধরে ফেসবুক, ইউটিউবে আমাদের পণ্যের যে প্রচারণা চালিয়েছি তার সাড়া কিন্তু দারুণ। প্রায় লাখখানেক মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।

দ্বিতীয় জন: কী বলেন? এটা তো রীতিমতো অবাক করা বিষয়। ভালো কাজ হয়েছে তো? আসলে স্মার্ট লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে যথেষ্ট সক্রিয় তাই দ্রুত পৌঁছানো গেছে। চলেন বসের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করি।

দৃশ্য তিন:

বাবা-ছেলেমেয়ের কথোপকথন

বাবা: কেন তোমাদের চোখ নষ্ট হবে না? সারাক্ষণ হয় ফোন না হলে কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাক। পৃথিবীতে আর কি হচ্ছে কোনো খেয়াল আছে তোমাদের? কোথাও যেতে বললেও যাও না। শরীরটাকে স্রেফ মাংসপিণ্ড বানিয়ে ফেলছ। আত্মীয়স্বজনদের চেহারা মনে আছে তোমাদের?

ছেলে: বাবা যদি পড়াশোনার কথা বল তাহলে গুগল থেকে সারাক্ষণই এটা ওটা জেনে নিচ্ছি। আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই ফেসবুকে আমার সঙ্গে কানেক্টেড। তাদের সঙ্গে নিয়মিতই এক ধরনের ভার্চুয়াল যোগাযোগ আছে। আর পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কী হচ্ছে, তার জন্য তো সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

মেয়ে: আমরা তো গ্রুপ ডিসকাশনগুলো অনলাইনেই সেরে নেই অনেক সময়। তবে, এটা ঠিক বাস্তবের সামাজিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দৃশ্য চার:

(এক রাস্তার গলিতে মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে রাস্তায়)

রিকশায় যাওয়ার পথে হঠাৎই একজন ধোয়া দেখে বলে উঠল আগুন লেগেছে। এই নিয়ে স্ট্যাটাস। বিভিন্ন অফিসের লোকজন পড়ি কি মরি করে সব বের হয়ে আসতে লাগল। সবাই সবাইকে জিজ্ঞেস করছে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

ওপরের এমন দৃশ্যের বাইরেও ঘটছে উল্টো ঘটনা। কেউ বিষণ্ন হয়ে আছেন, তো নিজের মনমতো যা তা স্ট্যাটাস দিয়ে বসেন। আবার চলে আরেকজনকে আক্রমণ করে নানা বক্তব্যও। অনেকে নেতিবাচক প্রচারণার জন্যও ফেসবুককে কাজে লাগায়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অনেকে আত্মহত্যাও করছেন। অনেক রেপিস্ট ফলাও করে ফেসবুকেই লাইভে তাদের কুকীর্তির জানান দেয়। প্রচুর গুজব রটানো হয় এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে। কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই প্রচুর মানুষ ছোটেন সেসব গুজবের পেছনে। সেই অর্থে ফেসবুক হয়ে গেছে বারোয়ারি জায়গা। কত পার্সেন্ট ভালো আর কত পার্সেন্ট খারাপ সেই পরিসংখ্যানে যাওয়ার সুযোগই বা কোথায়? সরকার অবশ্য এ বিষয়ে কী করছে তা অত জানা যাচ্ছে না। আবার সরকারি কোনো ইভেন্টে গুজবের আলামতে সহিংস ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ফেসবুক তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতে হয়তো ঘটনার তীব্রতা কমে যায়।

যা হোক, তথ্যপ্রযুক্তির এই নানা ডাইমেনশনের সুযোগ একেকজন একেকভাবে নিচ্ছে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ জীবনের পরিবর্তন আনছেন। কেউ নিজেসহ অন্যদের নিয়ে বিপথে পা বাড়াচ্ছেন। আবার কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেকেই বেঁচে খাচ্ছেন। সোজা বাংলায় বললে দাঁড়ায় নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছেন।

আবার বিশ্বজুড়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে লিংকডইন নামের আরেকটি সামাজিক মাধ্যম। যেখানে সাধারণত পেশাজীবীদের যোগাযোগ বেশি হয়। চাকরিদাতা বা গ্রহীতার মধ্যে বিভিন্ন তথ্যের আদান প্রদান চলে। চাকরিদাতারা নানারকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কীভাবে জীবনবৃত্তান্ত লিখতে বা পাঠাতে হবে, দরকারি অন্য কী কী স্কিল থাকা দরকার। আবার চাকরি প্রার্থীরাও তাদের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।

বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির বেশি। প্রথম আলোর ২০১৭ সালের এক রিপোর্টের তথ্য হচ্ছে, মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর হিসেবে, ২০১৬ থেকে ২০২০ এই পাঁচ বছরে শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নতুন ১৬০ কোটি স্মার্টফোন যোগ হবে। এই সংখ্যা সারা বিশ্বে আগামী পাঁচ বছরে যত স্মার্টফোন যোগ হবে, তার ৮৪ শতাংশ। সেই হিসেবে দেশের অপারেটর ও আমদানিকারকদের হিসাবে, এখন স্মার্টফোনের সংখ্যা মোট জনগণের অর্ধেকের কাছাকাছি।

এই অঙ্ক বলছে, রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে স্মার্টফোন ছড়িয়ে পড়েছে। জেনে না জেনে এর নানাবিধ ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্লেষণের হিসেবে বলা যায়, অনেকে শিক্ষিত হয়েও তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না জানায় যাচ্ছে তাই করছে। অশিক্ষিতদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তবে, সচেতন ব্যবহারকারীরা তথ্য, ঘটনা বা কোনো কিছুই নিশ্চিত না হয়ে কিছু শেয়ার করেন না।

ঘরে বসেই অনলাইনে প্রচুর কোর্স করা যাচ্ছে। সেসব কোর্সের মাধ্যমে নানাভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব। করোনার কারণে এই চাহিদা আরও বেড়েছে কয়েকগুণ। যেকোনো কেনাকাটার সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখন অনলাইন। তাই, আজগুবি সময় নষ্ট না করে ইতিবাচক ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেওয়াটাই এখন মুখ্য।

Share if you like

Filter By Topic