Loading...

সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা একে অপরকে ফাঁসাতে জেব্রাগুলোকে হত্যা করেছেন, অভিযোগ সংসদ সদস্যের

| Updated: January 31, 2022 15:12:54


সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা একে অপরকে ফাঁসাতে জেব্রাগুলোকে হত্যা করেছেন, অভিযোগ সংসদ সদস্যের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে‘ পার্কের ১১টি জেব্রাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ।

২৭ দিনে ১১টি জেব্রা ও একটি বাঘের ‘মৃত্যু’র জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষ ‘ব্যাকটেরিয়া, মারামারি ও অ্যানথাক্সকে‘ দায়ী করার মধ্যেই গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য রোববার এ দাবি করেন।

তবে এ ব্যাপারে পার্ক কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয় কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দুপুরে সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাণীগুলোর মৃত্যুতে পার্ক কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি রয়েছে। পার্কে দায়িত্বশীল, কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে অপরকে ফাঁসাতে জেব্রাগুলোকে হত্যা করেছেন।”

 “জেব্রাগুলো মারা যায়নি, এগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে। চলতি মাসে সাফারি পার্কে একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে যা গোপন রাখা হয়েছে। এটা কেউ জানে না। এত মূল্যবান প্রাণী মারা যাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ তা গোপন করে যাচ্ছে।”

সংসদ সদস্য বলেন, “পার্কের হাতিদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার সীমানা প্রাচীরের ভেতর থেকে পাচার হয়ে যায়। অবহেলাকরীদের দায়িত্বে রেখে তদন্ত কাজ সঠিক হবে না।”

গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছেন পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল কবীর।

তিনি বলেন, “পার্কে প্রাণীর মৃত্যুর ব্যাপারে কারো কোনো অবহেলা বা গাফিলতি নেই। বরং গত ২৫ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞ টিমের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ অনুযায়ী পার্কে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।“

তবে সংসদ সদস্যের দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি প্রকল্প পরিচালক।

গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৭ দিনে পার্কের মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়। সবশেষ শনিবার সকালে ও সন্ধ্যায় অসুস্থ দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়।

রোববার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পার্কের অসুস্থ জেব্রাগুলোর বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফল দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে ‘উন্নত চিকিৎসা ও অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে’।

এর মধ্যেই আজ বাঘের মৃত্যুর খবরটি জানা যায়।

প্রাণীদের ‘মৃত্যুর’ ব্যাপারে তদন্ত ও করণীয় ঠিক করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; রোববার সকালে পার্কে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছেন তারা।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, “জেব্রার মৃত্যুরোধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পার্ক কর্তৃপক্ষ দেশের বাইরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের কাছে মৃত জেব্রাগুলোর নমুনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

“এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার খামার মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। রোগের বিস্তারিত লক্ষণ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল ই-মেইলের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে।”

তদন্ত কমিটির প্রধান আরও বলেন, “তদন্ত কমিটি কাজ করছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত মিলিয়েই রিপোর্ট পেশ করা হবে। তবে এ বিষয়েই এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না।”

নয়টি জেব্রার মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ গত ২৫ জানুয়ারি জানায়, চারটি মারামারি ও পাঁচটি ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে মারা গেছে।

শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় মারা যাওয়া আরও দুটি জেব্রার মৃত্যুর কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

আর বাঘের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রোববার দুপুরে সাফারি পার্ক প্রকল্পের পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পার্কের জন্য নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. শহীদুল ইসলাম ও অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বাঘটির মৃত্যুর জন্য অ্যানথ্রাক্স জীবাণুকে চিহ্নিত করেছেন।”

বাঘের মৃত্যুর তথ্যটি কেন গোপন রাখা হয়েছিল – এমন  প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল কবির বলেন, “যে কারণটির কথা বলা হয়েছে, সেটি বাঘের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। তবে বাঘের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি; তাই তা কাউকে জানানো হয়নি। এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

 “ওই দুই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই বাঘটির চিকিৎসা চলছিল। তার মধ্যেই ১২ জানুয়ারি হঠাৎ বাঘটি মারা যায়।”

এই সাফারি পার্কে ৩১টি জেব্রা ছিল। ১১টি জেব্রা মৃত্যুর পর এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টিতে। আর বাঘ রয়েছে ১০টি। এর আগে অল্প সময়ে এ পার্কে এতোগুলো প্রাণী আর কখনও মারা যায়নি।

Share if you like

Filter By Topic