প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে পুরো সপ্তাহ জুড়ে যে দিনটির জন্য সবাই অপেক্ষা করে থাকে, তা হলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
বেশিরভাগ কাজে পেশা ও প্রতিষ্ঠানভেদে সপ্তাহান্তে মেলে এক বা দুইদিনের ছুটি। দুটো দিনের সৌভাগ্য খুব কমজনেরই জোটে, এক দিনের পাল্লাই ভারি।
এই একটি দিনে পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি মুছে ফেলবার ইচ্ছে থাকে, ইচ্ছে থাকে নিজেকে না দেয়া সময়টুকু পুষিয়ে নেবার কিংবা অনেকদিনের কোনো ইচ্ছে পূরণের। কিন্তু কাজের চাপে এতটাই পরিশ্রান্ত বোধ হয় যে এই দিনটি এলে বেশিরভাগ সময় কিছু না করেই কাটিয়ে দেয়া হয়।
তাই ছুটির দিন এলোমেলো নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে হবে যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে।
আজ কোনো কাজ নয়
প্রোডাক্টিভ হবার চাপে আরেকটু বেশি কাজ, অফিসের বাড়তি কিছু সেরে নেবার জন্য ছুটির দিনকে বেছে নিলে ওটা মোটামুটি গোল্লায় গেছে বলে ধরে নেয়া যায়।
কিন্তু ছুটির দিনে কাজ করলেই যে কাজের গতিপ্রকৃতি ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাবে, এমনটা ভাবা ভুল। কাজের মধ্যে বিরতি নেবার প্রয়োজন আছে। পর্যাপ্ত বিরতিটুকু না নীলে শুধু দেখতেই মনে হবে অনেক কাজ করা হচ্ছে, আসলে সিকিভাগও হচ্ছে না।
তাই কাজের ফাকে ফাকে ছুটি নিতে হবে। আর ছুটির দিনের পুরোটাই ছুটি নিতে হবে যে সপ্তাহের ক্লান্তি কিছুটা হলেও দূর হয়। এই দিনে জেনেবুঝে অকাজের কাজ অনেক করুন, কিন্তু কাজের কাজ যেন কোনোটিই না হয়।
একটু ঘুমিয়ে নিন
প্রতিদিন সকালে অ্যালার্ম ক্লকের আদেশেই হয়তো চলেন। অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট ঘুমোতে গেলে বাদ পড়ে যায় সকালের নাশতা, তাই ওটুকু বিলাসিতাও করতে চান না।
সোনালি ব্যাংকের অফিসার মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর কাছে ছুটির সকাল অনেকটাই আলাদা অন্য দিনগুলো থেকে। অনেক প্রতীক্ষিত সময় শুক্র-শনিবার, এ যেন মহাকাল থেকে কুড়িয়ে আনা একটু নিজের একান্ত সময়। একটু বেশিক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি আর ছেলের কপালে চুমু এঁকে সকাল আসে আমার কাছে।
শখের সাথে হোক মিতালী
নির্দিষ্ট ছকে দৌড়ুতে দৌড়ুতে ভুলে যেতে বসেছেন নিজের পছন্দের কাজগুলো। আলসে বিকেলে আচারের বোয়াম হাতে নিয়ে পছন্দের বইয়ে ডুব মারা, বারান্দা কিংবা ছাদের বাগানে ফুল ফোটাবার ইচ্ছেতে একটু বাড়তি যত্নের সকালটা, ঘরের কোণে রেখে দেয়া গিটারের টুংটাং, প্রিয় সিটকমটা আরেকবার টেনে টেনে দেখা এবং অন্য যেকোনো কিছুই হতে পারে আপনার শখের তালিকায় প্রথম সদস্য।
কিন্তু কেন যেন করা হয়ে উঠছে না এর কিছুই। হয়তো শুধুই ক্লান্তি, হয়তো মাথার মধ্যে দিনরাত মেলাতে থাকা হিসেব। এই না করার দিনে একটা স্বল্পচ্ছেদ ঘটাতে ছুটির দিন হতে পারে মানানসই। নিজেকে ঝালিয়ে নেয়া যায় ছোটখাটো ইচ্ছেপূরণের ছোঁয়াতে।
প্রিয়জনের জন্য
ছুটির জন্য নিজেরা যতটা না অপেক্ষায় থাকা, তার চাইতে আরেকটু বেশি পথ চেয়ে থাকে প্রিয়জনেরা। ব্যস্ততার কারণে তাদের সময় দেয়া হয়ে ওঠে না, বসে দু মিনিট মনের কথা ভাগ করা হয় না। সেক্ষেত্রে ছুটির দিনই ভরসা।
পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের জন্য তাই এ দিনটি তোলা থাক বিশেষ করে। অনেকদিন ধরে কোথাও বেড়াতে যাবার কথা ভাবছেন বা ইচ্ছে ছিল সবাই মিলে একসাথে খাবার? সপ্তাহান্ত রয়েছে এমন সব অপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই।
মঞ্জুশ্রীর কাছে জানা যায়, জমিয়ে রাখা যত কাজ (একটু আলাদা রান্না, আর মুভি দেখা তো আছেই) এই দুদিনের জন্য মুখিয়ে থাকে। বেড়াতে যাবার ইচ্ছে ডানা মেলে এই দুটো দিনের হাত ধরেই। সপ্তাহের পাঁচদিনের ক্লান্তি একটু তো ঝেড়ে ফেলাই উচিত বন্ধের দুটো দিনে।
অনিন্দিতা চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। anindetamonti3@gmail.com