Loading...

সাক্ষাৎকার দিতে হবে: আপনি তৈরি তো?

| Updated: February 28, 2021 18:34:49


প্রতীকী ছবি। থমসন রয়টার্স। প্রতীকী ছবি। থমসন রয়টার্স।

‘সাক্ষাৎকার’-এর ইংরেজি হচ্ছে ‘ইন্টারভিউ’। বাংলায় প্রচলিত এ শব্দের চেয়ে ইংরেজি শব্দটির প্রচলনই আমাদের কাছে বেশি। শব্দটি শুনলেই কম বেশি সকলেই আমরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই। কিন্তু কেন?

সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে পারে এবং এর মাধ্যমে অপরজন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে একটি ধারণা পায়। হতে পারে সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক। বেশির ভাগ সময়েই আমরা প্রস্তুতির অভাবে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে সকলের কাছে সমানভাবে তুলে ধরতে পারি না। এর ফলে পরবর্তী সময়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ি। তাই সাক্ষাৎকারকে ঘিরে এত এত ভয়।

মানুষের জীবনের বিভিন্ন ধাপে মুখোমুখি হতে হয় সাক্ষাৎকারের। পরিবার হোক কিংবা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অথবা হাট-ঘাট-মাঠ–আমরা নিজের অজান্তেই অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎকারের সম্মুখীন হয়ে থাকি। কিন্তু এ ধরনের সাক্ষাৎকারে আমাদের কোনো প্রস্তুতি থাকে না। তবে চাকরি কিংবা যেকোনো পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে যে সাক্ষাৎকারগুলো হয়ে থাকে, তা হয় সব সময় একটা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, যেখানে একটি সুসংগঠিত কাঠামো থাকে।

বর্তমানে আমরা দু’ধরনের সাক্ষাৎকার সম্পর্কে জানি। একটি হলো প্রত্যক্ষ বা মুখোমুখি সাক্ষাৎকার, অপরটি পরোক্ষ সাক্ষাৎকার।

দু’ধরনের সাক্ষাৎকারেই মানসিক প্রস্তুতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রস্তুতির ওপর আপনার সাক্ষাৎকারের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে। অবশ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকারে পোশাক, চুলের ধরন, হাঁটা-চলা ইত্যাদি দর্শনধারী বিষয়ক প্রস্তুতিও কিছুটা থাকে।

সাক্ষাৎকারের পূর্বে যিনি সাক্ষাৎ প্রদান করবেন, অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে তাঁর ধারণা থাকা প্রয়োজন।

প্রথমত, সাক্ষাৎকারের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জেনে নেওয়া। যদি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড বলা থাকে, সেভাবে সাক্ষাৎকারের দিন উপস্থিত হওয়া। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা।

দ্বিতীয়ত, যে বিষয়ে বা যে প্রতিষ্ঠানের পদের জন্য সাক্ষাৎকার হবে, সে বিষয়ে বিশদ ধারণা রাখা। যে বিষয়ে আপনি পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তার ওপরও প্রাথমিক ধারণা নিয়ে রাখা।

তৃতীয়ত, সব ধরনের সাক্ষাৎকারের সময় কিছু মৌলিক প্রশ্ন করা হয়। সেসব প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিতে হয়, সেগুলো অবশ্যই নিজে নিজে আগে থেকে বেশ কয়েকবার চর্চা করে নিতে হবে। যদি সম্ভব হয় অপরিচিত কারও সামনে বসে নিজে সেসব প্রশ্নের উত্তর দিন। এটি আপনার প্রস্তুতি আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

চতুর্থত, কীভাবে আপনি সাক্ষাতের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে সাক্ষাৎ গ্রহণকারীদের সম্বোধন বা অভিবাদন করবেন, সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। সব সময় তাদের অনুমতি গ্রহণ করেই সব প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। এ বিষয়টিও ভুলে গেলে চলবে না যে, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, কথা বলতে হবে যথাসাধ্য নমনীয়তার সঙ্গে।

সর্বশেষে, এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পরও যদি কোনো সময় অপ্রীতিকর বা অপ্রস্তুতিমূলক বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়, সেসব ক্ষেত্রে নিজেকে সামলে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। এটিও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রস্তুতির বিষয়। কোনোভাবে খেই হারিয়ে ফেলা যাবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে পরবর্তী ধাপের কথা ভাবতে হবে।

এ ছাড়া, আমাদের সকলেরই উচিত সব সময় নিজেকে প্রস্তুতির মধ্যে রাখা, যাতে মূল্যবান সময় বৃথা না যায়। প্রস্তুতি হলো নিজেকে সবার থেকে আলাদা করার মূলমন্ত্র। প্রস্তুতি সফলতাকে কাছে নিয়ে আসে। তাই সময়ের সঙ্গে প্রস্তুতির যে গভীর সংযোগ রয়েছে, সেটি উপলব্ধি করতে হবে। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পেছনেও থাকে অনেক দিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি।

একজন সাক্ষাৎকারীকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজের দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। পূর্বে অর্জিত যেকোনো সাফল্যকে কাঙ্ক্ষিত পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপন করা জানতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে নিজের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তবে দুর্বল দিকগুলো এমনভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে তা আপনার অবস্থান নড়বড়ে না করে দেয়।

অবশ্যই জানতে হবে, কেন আপনি আপনার প্রত্যাশিত পদের জন্য সেরা, কেন আপনাকেই এ পদের জন্য নেওয়া উচিত সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর এবং কেন আপনি পদটি বাছাই করেছেন। ভবিষ্যতে আপনি  সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান বা নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সেসব প্রশ্নের উত্তরও জানতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরগুলো নখদর্পণে রাখতে হবে। মহড়ার সময় যার কাছ সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তার প্রতিক্রিয়া বা পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও, যদি সম্ভব হয়, অভিজ্ঞ ব্যক্তি থেকে সংশ্লিষ্ট পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে।

সাক্ষাৎকার হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সব সময় সবদিক দিয়ে সঠিক দক্ষতাসম্পন্ন মানুষটিকে সকলের মধ্যে থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারের পর ব্যর্থতা আসতেই পারে, তাই বলে নিরাশ হলে চলবে না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে আপনাকেই বেছে নেয়া হয়।

সময় থাকতে নিজেকে ভালভাবে প্রস্তুত করুন। তবে সাক্ষাৎকারের পূর্বে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের প্রতি নজর দিতে হবে এবং নিজের মনকে সকল চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

লাবণ্য ভৌমিক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ইমেইল–labanyabhowmik 1777 @gmail. com

Share if you like

Filter By Topic