সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে; যাতে আবেদন জমা পড়েছিল পাঁচ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি।
বুধবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
বিকাল পাঁচটা থেকে http://gsa.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে লটারির ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে রেজাল্ট পেতে টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে GSA<Space>RESULT<Space>USER ID লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে 16222 নাম্বারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধায়নে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত এ লটারি ব্যবস্থাপনা করা হয়। এতে কারিগরি সহায়তা দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ৪০৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২৫ নভেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।
এ প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য মোট ৮০ হাজার ৯১টি শূন্য আসনের চাহিদা পাওয়া যায়।
এবার এসব আসনের বিপরীতে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬টি আবেদন নেওয়া হয়।
বুধবার টেলিটক বাংলাদেশ আয়োজিত লটারি কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এ কার্যক্রম যে একেবারেই হুট করে চালু হয়েছে ব্যাপারটা তা নয়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে এই অনলাইন লটারি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
“কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যখন বড় আকারে সামনে চলে এল, ভর্তি পরীক্ষা নিতে গেলে তখন একটা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত, তখন আমাদের চিন্তাগুলোকে কাজে লাগিয়েছি।“
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধার সমতা আনার জন্যই এই কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অভিভাবকদের মধ্যে তাদের সন্তান কী শিখল তার চাইতে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, কী ফলাফল করল, সেটার উপরেই অনেক বেশি নজর থাকে।
“নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি করার জন্য অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগীতা বিভিন্ন সময় দেখতে পাই। এবং সেই ভর্তি করাতে গিয়ে মাঝে মাঝে তারা বিভিন্ন অনৈতিক উপায় অবলম্বনও করতেও অনেকে পিছপা হন না। এ সবকিছু মাথায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের এই লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে।“
সন্তানদের ভর্তি করা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, সেটি বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপরেও একটা প্রচণ্ড মানসিক চাপ থাকত, সেটিও কমে গিয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার কারণে কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্ম শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার বিষয়টিও আমরা মাথায় রেখেছি। ভর্তির কারণে যে কোচিং বাণিজ্য চলছিল, সেটিও বন্ধ হয়েছে।“
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তি কার্যক্রমে অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে দেন তিনি।
এবারই অর্থাৎ ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
দীপু মনি বলেন, “এর বাইরেও উপজেলা পর্যায়ে চাইলে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।“
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের স্কুল বদলির ব্যাপারে কিছু নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে উভয় বিদ্যালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পারস্পারিক বদলিভিত্তিক ভর্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
“কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে তার সন্তান যে এলাকায় স্থায়ী হবে, সেই এলাকায় সরকারি বিদ্যালয়ে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে একবারের জন্য ভর্তির সুযোগ দেয়া যাবে। কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, যার পিতামাতা নেই, কিংবা শিক্ষার্থী কোনো কারণে বাসস্থান পরিবর্তন করলে পরিবর্তিত এলাকায় আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে একবারের জন্য সেই শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে”।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাব উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
